সমাজে প্রতিটি মানুষ যদি অপরাধ করার আগে অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে অবগত থাকেন, তাহলে আমার মনে হয় সমাজে অপরাধের প্রবণতা অনেকাংশেই কমে যাবে। কেননা, অপরাধ করলে অপরাধের যে শাস্তি আছে সেই বিষয়ে আমরা সকলেই অবগত। কিন্তু সেই অপরাধের শাস্তির মাত্রা কিংবা সেই অপরাধের কার্যবিধি সম্পর্কে খুব বেশি অবগত নই কিংবা অবগত নই বললেই চলে। সমাজের অনেক ব্যক্তি আইন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে সমাজে যে কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে ভয় পায় না। কারণ তার চিন্তা-চেতনায় কোন্ ধরনের অপরাধের কারণে কোন ধরনের জটিলতা বা কত বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কে কোন ধরনের ধারণা থাকে না। মাঝে মাঝে সমাজের কোন ব্যক্তির জঘন্য কোন এক অপরাধের কারণে সমস্ত গ্রামবাসীকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় পড়তে হয়। এতে মানুষ বিভিন্ন ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হন। যেমন-বিভিন্ন ধরনের মার্ডার কেস, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বিভিন্ন ধরনের উদ্দেশ্যবিহীন পক্ষপাতিত্ব নিয়ে কলহ ইত্যাদি কারণে মানুষ আজ প্রতিনিয়ত ঝামেলায় পড়ছে। যা সমাজে অশান্তিরই সৃষ্টি করে।
এসব বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমানোর জন্য গ্রামে-গঞ্জে বিশিষ্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সমাজে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে মানুষ নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, বিভিন্ন ধরনের জমি-জমার ঝামেলা, খুন-খারাপি, অবৈধ ব্যবসার শাস্তি ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে পারেন এবং নিজেকে সচেতন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এজন্য সমাজের নির্দিষ্ট কোন জায়গায় নির্দিষ্ট একটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে আইনজীবীও তাঁর পারিশ্রমিক পান। একটি বিষয় খেয়াল করুন, আমরা সমাজে কাদেরকে অর্থাত্ কোন ব্যক্তিদের বিচক্ষণ কিংবা বুদ্ধিমান বা জ্ঞানী ভাবি? যাঁদের দেশের বা সমাজের আইন-কানুন সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করেন তাঁদেরকেই তো আমরা জ্ঞানী, বুদ্ধিমান বা বিচক্ষণ যাই বলি না কেন ভেবে থাকি। অনেক বিচক্ষণ, জ্ঞানী বা বুদ্ধিমান ব্যক্তির কারণে অনেক সমাজই আজ প্রতিনিয়ত অনেক বিপদকে এড়িয়ে চলতে বা অনেক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা পেতে সক্ষম হচ্ছে্। আর তাঁদের কারণে সমাজে অনেক ব্যক্তিরই উপকার সাধিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বিপদ-আপদে তাঁদের নিকট শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। অনেক কাজেই আমাদেরকে তাঁদের উপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। তাই আমি বলবো শুধুমাত্র কতিপয় বিচক্ষণ ব্যক্তির উপর নির্ভর না করে, আমরা সকলেই বিচক্ষণ হতে শিখি। আমরা সকলেই জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হতে শিখি। যা আমাদের প্রত্যেকেরই উপকার সাধিত হবে।
সমাজে আইনের প্রচার হলে কোর্ট-কাছারি, পুলিশ ইত্যাদি সম্পর্কে মানুষের অহেতুক ভীতি ও ভুল-ধারণাও দূর হবে। গণমাধ্যমে এ ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা থাকা দরকার। সংবাদপত্রের আইন-আদালত পাতা আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন। দেশের তৃণমূলের লাইব্রেরি ও পাঠাগারগুলোতে আইনের বই বেশি বেশি থাকা আবশ্যক। পরিশেষে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের প্রচার বাড়াতে আইন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
