আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নাড শ তার সামান্য মাথা ব্যথার চিকিত্সার জন্য একের পর এক ডাক্তার ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কেউ সেটা সারাতে পারেননি, উল্টো হাজার হাজার ইউরো নিয়ে গিয়েছিলেন। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। আমাদের দেশেও প্রায় সেই একই চিত্র। আজকাল রোগীকে এক গাদা টেস্ট বা পরীক্ষা দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সামান্য ঠান্ডা-কাশির জন্যই যদি ৫/৬টা পরীক্ষা করতে হয় তাহলে চিকিত্কদের অভিজ্ঞতার মূল্য কোথায়? যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানো হয় বিনিময়ে ডাক্তাররা তাদের কাছ থেকে পারসেন্টেস নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ আছে। যে দরিদ্র মানুষটি নিজের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে আসে সুস্থ হয়ে ফিরে যাবার আশায়, অনেক সময় সে তার পুরোটাই ব্যয় করেন চিকিত্সা খাতে। অসহায় মানুষটি তখন কাতর হয়ে ভাবে পরীক্ষার পরে ওষুধ কেনার কথা। যদি ওষুধ না খাওয়া যায় তো পরীক্ষা করে লাভ কি? আবার অনেক ক্ষেত্রে অল্প টাকায় অনভিজ্ঞ লোক দ্বারা ডায়াগনস্টিক চালানো হয়। একবার রোগ ধরা না পড়লে আবার করে আসতে বলা হয়। এদের সিংহভাগেরই কোনো লাইসেন্স নেই। অনেক সময় হালকা ঝাপসা করে রিপোর্ট তৈরি করা হয় যা ডাক্তার দেখে আবার পরীক্ষা করতে পাঠান। কারণ প্রতিটা পরীক্ষা থেকে ডাক্তারগণ ৫০% হারে লভ্যাংশ পেয়ে থাকেন বলে জানা যায়। সরকারের উচিত এই এক শ্রেণির ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় বড় হয়ে তুমি কি হতে চাও? উত্তরে অনেকেই বলে আমি বড় হয়ে ডাক্তার হবো। কারণ তারা যখন চিন্তা করে ডাক্তার হবে তখন তাদের মনে কাজ করে তারুণ্যের আবেগ। স্বপ্ন থাকে, ডাক্তার হয়ে মানুষ সেবা করার। কিন্তু সেই সুযোগ যখন চলে আসে তখন আবেগের বেগ গতি হারিয়ে ফেলে। ফ্রি চিকিত্সার কথা প্রতিশ্রুত থাকলেও কালক্রমে সেটা হারিয়ে যায়। একজন রোগী যখন হাসপাতালে প্রবেশ করে তখন থেকেই তাকে বিভিন্ন ধরনের হিসেব জপতে হয়। এক্ষেত্রে সব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স আছে কি-না তা কড়া নজরদারিতে নিয়ে আসতে হবে। যথাসম্ভব প্রতিটি পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। যদি কোন ডাক্তার অপ্রয়োজনে কোনো পরীক্ষা দেন এবং রোগীর সেটা সন্দেহ হলে তার জন্য যাতে রোগী অভিযোগ করতে পারে সেটার ব্যবস্থা থাকতে হবে। যদি কেউ সেখানে অভিযোগ করে তাহলে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে সেজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও চাপের মধ্যে রাখা যেতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম বন্ধ না হলে দেশে সুশাসন আসবে না।
নরসিংদী
