ত্বকী হত্যাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সন্ত্রাস নির্মূলের আন্দোলন জোরদার করার আহবান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, ত্বকী হত্যাকাণ্ড একটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড। কেননা এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সরকার খুনিদের পক্ষ নিয়ে তাদের আড়াল করে রেখেছে। এতে সহজেই বোঝা যায়, সরকার সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। ত্বকী হত্যার দেড় বছর উপলক্ষে ‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ’ এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।
বক্তারা বলেন, পুরো বাংলাদেশকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য আমাদের সামাজিক বিপ্লব সৃষ্টি করতে হবে। ত্বকী হত্যার হয়তো আমরা তাত্ক্ষণিক বিচার পাবো না কিন্তু সমাজ থেকে সন্ত্রাস নির্মূল করতে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অপরাধের শাস্তি হচ্ছে না বলেই দেশে একটার পর একটা বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এই যে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে, এর ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতা ফুটে উঠছে।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ অজয় রায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে সারাদেশে একটি পোস্টার ক্যাম্পেইন করার আহবান জানান। ঐক্য ন্যাপের আহবায়ক পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ত্বকী হত্যা একটি রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড এবং সরকার এর উপর অঘোষিত ইনডেমনিটি জারি করেছে, সেটি প্রত্যাহার করতে হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সরকারকে একটু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার দেশের ১৬ কোটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার অস্বীকার করে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর যে ঘোষণা দিলেন, আমরা না পারলেও ইতিহাস একদিন এর বিচার করবে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, রাষ্ট্র সরকার বিরোধিতা করলেও, জনগণ চাইলে ত্বকী হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে পারে। অধ্যাপক শফিউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রেণি চরিত্রকে ডিঙ্গিয়ে কেউ কিছু করতে পারে না। সাম্রাজ্যের পতন হয়, বিরাট বটগাছ গুঁড়িয়ে পড়ে কিন্তু দুর্বাঘাস গুঁড়িয়ে পড়ে না। আর সেই দুর্বাঘাস হচ্ছে জনগণ।
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, আগে জানতাম আইন চলে তার নিজ গতিতে। কিন্তু এখন জানি আইন চলে অর্থ আর ক্ষমতার গতিতে। এই হত্যাকাণ্ডের সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়ার কারণে এই সরকারকেও একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ত্বকী হত্যার বিচার একদিন হবেই। কিন্তু আমরা কেবল ত্বকী হত্যার বিচারই চাই না, আমরা দেশের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য আন্দোলন করছি।
সন্ত্রাস নির্মল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব হালিম আজাদ এর পরিচালনায় গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনায় আরো অংশ নেন, অধ্যাপক এম এম আকাশ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার আহবায়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী নিখোঁজ হন এবং এর দুইদিন পর ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
