বঙ্গবন্ধুর সেই সফর কাপ্তাইবাসীকে আজও অনুপ্রাণিত করে

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩৪
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শহীদ হবার ৫৯ দিন আগে অর্থাত্ ১৪ জুন শেষবারের মতো কাপ্তাই সফর করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই সফর কাপ্তাইবাসীর মনে এখনো জাগরুক হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু সেদিন ভাষণে কি বলেছিলেন, স্থানীয়দের মধ্যে সেদিন কারা বক্তব্য রেখেছিলেন এবং স্থানীয় উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর কাছে কি কি দাবি তোলা হয়েছিল এসব বিষয় এখনো অনেকের স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে। প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল ইসমলাম বলেন, সেদিন বঙ্গবন্ধুকে অভিবাদন জানাতে ২০টি হাতি কাপ্তাই প্রজেক্টের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। বঙ্গবন্ধু হাতির অভিবাদন গ্রহণ করেন। কাপ্তাইবাসী বঙ্গবন্ধুকে বীরোচিত সংবর্ধনা দেয়। বঙ্গবন্ধু কাপ্তাইয়ের জনগণের ভালোবাসা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হন। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য কাপ্তাইয়ের পান্থপিয়ায় সেদিন প্রায় ৫০ হাজার লোক সমাগম হয় বলেও তিনি জানান। আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল ফরিদ জানান, বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেদিন চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী নুরুল ইসলাম বক্তব্য রেখেছিলেন। সেদিন কাপ্তাইবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে যে মানপত্র দেয়া হয়েছিল তার ফটোকপি পাওয়া গেছে চন্দ্রঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম কাজী নুরুল ইসলামের পরিবারের কাছে। ঐ মানপত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কাছে স্বাস্থ্য সেবা, ভূমি সমস্যা, বাঁশ ও কাঠ আহরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাপ্তাই ও চন্দ্রঘোনার জনকল্যাণে বেশ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। কাপ্তাই প্রজেক্টের পান্থপিয়ায় বঙ্গবন্ধু ভাষণ দেন। উপস্থিত জনতার মুহুর্মুহু করতালি আর শ্লোগানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু কাপ্তাইবাসীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেন। যেসব সমস্যা ও দাবি তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল তিনি তার সবগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেন বলে স্থানীয়রা জানান। কিন্তু কাপ্তাইবাসীর দাবি পূরণ হবার আগেই বঙ্গবন্ধু শহীদ হন। বঙ্গবন্ধুর কাপ্তাই আগমন এবং বক্তব্য দেবার সময়কার কোন আলোকচিত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। বঙ্গবন্ধু সেদিন কাপ্তাই বিদ্যুত্ ভবনে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম করেন। তিনি প্রকৌশল একাডেমিতেও যান। একাডেমির ভিজিটর বইয়ে তাঁর স্বাক্ষর রয়েছে। এই স্বাক্ষর আর তাঁর সম্মানে পাঠ করা মানপত্রের লিফলেট ছাড়া কাপ্তাইয়ে তাঁর আগমনের আর কোন স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। বঙ্গবন্ধু কাপ্তাই থেকে ঢাকায় যাবার সময় রাঙ্গামাটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করেছিলেন। ঐ উদ্বোধনী ফলক এখনও সেখানে দ্বীপ্তিময়। বঙ্গবন্ধু যখন উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন তখন সেটি ছিল বাংলাদেশের একমাত্র উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র। ঐ উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের মাধ্যমে তখন সমগ্র বাংলাদেশে আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদান করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি অচল পড়ে আছে। চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের পাশে ১৫৬ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং চতুর্দিকে সীমানা প্রাচীর ঘেরা উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি দেখভালের জন্য এখন ৬০জন পুলিশ নিয়োজিত রয়েছেন। আর আছেন ৪০ জন কর্মচারি। বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রটি বিশেষ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।