সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন। গতকাল শনিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী দিবসে সিলেট বিভাগীয় আদিবাসী উদযাপন কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে তিনি ভর্ত্সনা করেন।
এক পর্যায়ে তিনি খবিশ ও চরিত্রহীন বললে উপস্থিত সাংবাদিকরা অনুষ্ঠান বয়কট করেন ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় মিলনায়তনে হট্টগোল শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্কলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সভায় বিশেষ অতিথিদের বক্তৃতা শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বক্তৃতা শুরু করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আক্রমনাত্মক কথা বলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তৃতা দেয়ার জন্য তাঁকে আহবান করা মাত্র তিনি মাইক্রোফোনের সামনে এসে সাংবাদিকদের সরে যেতে বলেন। এক পর্যায়ে তোমাদের মুখ দেখতে আসি নাই বলে সাংবাদিকদের মাইক্রোফোনের সামনে থেকে ক্যামেরা নিয়ে চলে যেতে বলেন। তিনি সাংবাদিকেরা যা ইচ্ছে তাই লিখে জানিয়ে বলেন, এরা কেউ জার্নালিজম পড়ে সাংবাদিক হয়নি। আমার মেয়ে জার্নালিজমে এমএ করেছে। আর এরা কলেজে ঘুরাঘুরি করে সাংবাদিক বনে গেছে।
মন্ত্রী বলেন, যতদিন দুনিয়া থাকবে ততোদিন ফজরের নামাজের পর মসজিদে কোরআন পাঠ হবে। মাদরাসা শিক্ষায় আরবীর পাশাপাশি বাংলা-ইংরেজি শিক্ষা না দিলে তারা পিছিয়ে পড়বে। আমি একটি অনুষ্ঠানে এ রকম কথা বলেছিলাম, কিন্তু সাংবাদিকরা আমার বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করেছে। একটি জাতীয় দৈনিকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ ওই পত্রিকা লিখেছে তারা আমাকে লাল পানি খাওয়াবে। আমি বলি একটা, তারা লিখে আরেকটা।
মন্ত্রী বলেন, আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে বলেছেন হাসানুল হক ইনু ১৪ দলের নেতা, আর তুমি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা। সাংবাদিকরা যা ইচ্ছে লেখুক, তাতে কিছু যায় আসে না। তুমি চালিয়ে যাও।
তিনি বলেন,স্বাধীন কমিশন হলে পরে দেখ নেব তোমরা (সাংবাদিকেরা) কতটুকু যেতে পার। সাংবাদিক গ্যালারিতে থাকা সকল সাংবাদিক নিরবে বের হয়ে যাওয়ার সময়ও তিনি খবিশ ও চরিত্রহীন বলে গালি দেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকরাও তার ওপর চড়াও হলে মন্ত্রী বক্তৃতা বন্ধ করে নিরব থাকেন। তখন মিলনায়তনজুড়ে হট্টগোল সৃষ্টি হলে মঞ্চে বসা জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সমপাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আদিবাসী নেতারা সাংবাদিকদের মিলনায়তন থেকে নিরবে বের হয়ে যেতে সহায়তা করেন। মন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করে পুলিশ পাহারায় গাড়ি দিয়ে সার্কিট হাউসে চলে যান।
অনুষ্ঠান কভার করতে যাওয়া সাংবাদিকরা এর আগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ করে পরে মিলনায়তন এলাকা ছেড়ে চলে যান।
