ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাতীয় পার্টির (জাপা) আহ্বায়কের পদ থেকে কাজী ফিরোজ রশীদকে বাদ দিয়ে ভারত চলে গেলেন দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। ফিরোজকে সরিয়ে ওই পদে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ছয়দিনের সফরে গতকাল শনিবার কলকাতার উদ্দেশে এরশাদ ঢাকা ছাড়েন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে। এর দেড় ঘণ্টা পরেই কাজী ফিরোজ রশীদকে বাদ দেয়ার বিজ্ঞপ্তি সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো হয়।
এরশাদের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ তাত্ক্ষণিকভাবে ইত্তেফাককে বলেন ‘আই অ্যাম হ্যাপি। এটা এরশাদের দল, উনি যেভাবে চালান সেভাবেই চলে, কখন কাকে রাখবেন-কাকে বাদ দেবেন, সেটি ওনার বিষয়। তাছাড়া মহানগর রাজনীতি করবো আমি! ১৯৭৪ সালে আমি যুবলীগের মহানগরের রাজনীতি করেছি। ’৬৪ থেকে ’৬৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রলীগের মহানগরের দায়িত্বে ছিলাম। সেজন্য এরশাদের এই সিদ্ধান্তে আমার কোনো আপসোস নেই, বরং ভালোই হলো!’
অন্যদিকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ইত্তেফাককে বলেন, “আমি আগে অবিভক্ত মহানগর জাপার আহ্বায়ক ছিলাম। পরে এরশাদ সাহেব আমাকে সরিয়ে অন্যদের দায়িত্ব দিয়েছেন, এখন আবার ভালো মনে করে তিনি ফিরিয়ে এনেছেন। সবই আল্লাহ্র রহমত। চেষ্টা করবো মহানগরকে শক্তিশালী করার।”
প্রসঙ্গত, আবু হোসেন বাবলা দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর জাপার আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। পরে তাকে বাদ দিয়ে মহানগরকে ‘দক্ষিণ’ ও ‘উত্তর’-এই দু’ভাগে ভাগ করেন এরশাদ। দক্ষিণের আহ্বায়ক করেন ফিরোজ রশীদকে, আর উত্তরের আহ্বায়ক করেন এসএম ফয়সল চিশতিকে। তবে ফিরোজ রশীদকে সরানোর পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি এরশাদ গতকাল বিলুপ্ত ঘোষণা করলেও ওই কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল আলম রুবেলকে নতুন কমিটিতে স্ব-পদে বহাল রেখেছেন।
জানা গেছে, মূলত দশম সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ দিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণেই ফিরোজ রশীদকে সরিয়ে দিলেন এরশাদ। উপনেতার পদ নিয়ে আবারও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে এরশাদ ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের। জাপার সংসদীয় দল সর্বসম্মতিক্রমে ফিরোজ রশীদকে বিরোধী দলীয় উপনেতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে গত ২৭ জুলাই সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেন রওশন। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এরশাদ বলেছেন, বিরোধী দলীয় উপনেতা কাকে করা হবে, এ বিষয়ে জাপা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ ব্যাপারে যেসব খবরাখবর প্রকাশিত হয়েছে, সেসব সত্য নয়।
এদিকে, জাপা চেয়ারম্যানের দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে- এরশাদ ব্যক্তিগত সফরে কলকাতা গেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন— পুত্র এরিক ও একান্ত সচিব মেজর খালেদ আখতার (অব.)। তিনি আগামী ১৪ আগস্ট দেশে ফিরবেন। জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, আবুল কাশেম, মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা, সুনীল শুভরায় ও মোহাম্মদ নোমান এমপি প্রমুখ বিমানবন্দরে এরশাদকে বিদায় জানান।
সূত্রমতে, পুত্র এরিককে ভারতে ভর্তি ও নিজের চিকিত্সার কথা বলে এরশাদ ভারত গেলেও কার্যত এই সফরে তার কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরশাদ ভারতের সঙ্গে তার অবনতি হওয়া সম্পর্কের উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। সেই চেষ্টাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে নিশ্চিত করেছে এরশাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র।
