পদ্মা নদীতে এখন কান্নার ঢেউ। পদ্মাপাড়ে স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি। ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ লঞ্চ। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা থেকে যারা বেঁচে ফিরেছেন তারা নেহাতই ভাগ্যবান।
পদ্মা তীরে দেখা গেল, ১২ বছরের সীমা আক্তার কাঁদছেন। সে জানাল, তার বাবা-মা ও ভাই-বোনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরের চান্দেরচর গ্রামে। তার কান্নাকাটি দেখে ঘাটের ক্যাম্পের পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। এই শিশু এখন কী করবে তা বুঝতে পারছে না। সীমা জানায়, লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সময় সে তার মাকে জড়িয়ে ধরেছিল। কিন্তু পানির মধ্যে হাবুডুবু খাওয়ার সময় কে বা কারা তাকে টেনে একটি ট্রলারে তোলে। বাবা-মা, ভাই-বোনের খোঁজ পায়নি। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে তাও সে জানে না।
ঝালকাঠির নলছিটি থেকে আসা হনুফা বেগম স্বামী হেমায়েত হাওলাদার ও দেবর বাবুল হাওলাদারকে খুঁজে না পেয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন বার বার। কাঁদতে কাঁদতে হনুফা বললেন, লঞ্চ ডুবে যাওয়ার সময় স্বামীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। আচমকা এক ঢেউয়ে স্বামীর হাত থেকে হাত ছুটে যায়। মনে হল চিরদিনের জন্য এই বন্ধন ছিন্ন হয়ে গেল।
পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বেঁচে আছেন বরিশালের উজিরপুরের রিনা রহমান (৩৫)। রিনার স্বামী, দুই মেয়ে ও ছেলে নিখোঁজ। গাজীপুরে বর্তমানে থাকেন রিনা রহমান। ঈদের ছুটিতে গিয়েছিলেন বাড়ি। সবাইকে হারিয়ে নিজের বেঁচে থাকার কথা জানান রিনা, লঞ্চ যখন ডুবে যাচ্ছিল, দুই মেয়েকে তাদের বাবা ধরে রেখেছিলেন। আমি আমার ছেলে ইমতিয়াজকে বুকের মধ্যে ধরে রেখেছিলাম। লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পরে ঢেউ ও স্রোতের তোড়ে আমার দুই হাত থেকে ছুটে যায়। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জেগে দেখি আমাকে ঘাটের কাছে একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে।
ছবি: সোহেল রেজা
