এগিয়ে যাওয়া নারী

বহুমুখী নাতাশা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২০:০০
ডা. এন কে নাতাশা। এমবিবিএস করেছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে। পিএইচডি করছেন নরওয়ের অসলো ইউনিভার্সিটিতে। বাড়ি কুমিল্লায়। বাবা খুরশীদ আহমদ এবং মা সেলিনা খুরশীদ। বহুমুখী প্রতিভাধর নাতাশা। সংবাদ উপস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সাইন্সেসে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। নানা বিষয়ে কথা হয় নাতাশার সঙ্গে। নাতাশা বলেন, যখন বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই পরিবার থেকে বলে দেয়া হয়েছে তোমাকে ডাক্তার হতে হবে। বলা যায়, অনেকটা চাপিয়ে দেয়া। তবে আমি বেশ উপভোগ করছি। আগ্রহের জায়গা পাবলিক হেলথ। তিনি বলেন, আমার পিএইচডির বিষয় হচ্ছে ‘ডায়াবেটিস ও মানসিক স্বাস্থ্য’। গবেষণা এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন হচ্ছে পাবলিক হেলথের মূল বিষয়। তাই মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে পড়াই। এছাড়া একই বিষয়ে গবেষণা করছি। নাতাশা বলেন, পাবলিক হেলথে কাজ করতে হলে গণমানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হয়। বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্য সচেতন করার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে চাই। কেননা রোগ হওয়ার আগে সচেতন করা গেলে অনেক রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তিনি বলেন, জনবহুল এই দেশে জীবনযাত্রার মান খারাপ হয়ে যাচ্ছে। ভেজাল খাদ্যে সয়লাব দেশ। পানির মধ্যে মিশে যাচ্ছে বিষ। এসব ঠেকাতে না পারলে স্বাস্থ্যগত দিক থেকে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, গ্রাম এখন আর গ্রাম নেই। আধা শহুরে আর আধা গ্রাম হয়ে গেছে। নিজেদের সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলছে গ্রামের বসবাসকারীরা। প্রতিনিয়ত গাছপালা কেটে উজার করা হচ্ছে। এক ফাঁকে জানালেন তাদের ছোট্ট উদ্যোগের কথাও। স্বামীর বাড়ি বরিশালের আগৈলঝড়ার বাগধা গ্রামে একটি ক্লিনিক দিয়েছেন তিনি। সহায়তা করেছেন জীবনসঙ্গী দেবাশীষ সমদ্দার। নাম দিয়েছেন ‘শান্তি সেবালয়’। সমদ্দার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠান এটি। বরিশাল শহর থেকে সপ্তাহে ৫ দিন ডাক্তার যায় সেখানে। ঢাকা থেকেও ডাক্তার গিয়ে বিশেষ ক্যাম্প করে। এখানে রোগীদের নামমাত্র মূল্যে চিকিত্সা দেয়া হয়। স্বপ্ন ২০১৬ সালের মধ্যে একটা হাসপাতাল হবে এখানে। নাতাশা বলেন, দেশে মেয়েরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সময় পার করে। পরিবার থেকেই মেয়েদের নিরাপত্তার অভাব। তবে বাবা-মায়েদের ভয় না পেয়ে মেয়েদের উত্সাহ দিতে হবে। মানসিক সাপোর্ট দিতে হবে। অনেক শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। শিশুদের শেখাতে হবে কিভাবে অপ্রয়োজনীয় লজ্জা ভেঙ্গে সচেতন হতে হয়। আমাদের মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। গবেষণাতেও তারা বেশ ভালো করছে। আমি মনে করি, মেয়েদের সামাজিক স্বাধীনতা দিতে হবে। তাহলে আরো এগিয়ে যাবে মেয়েরা। বাংলাদেশি মেয়েদের ডাক্তারি পেশায় বেশি আসা দরকার। সেবার মানসিকতা মেয়েদের বেশি থাকে। আমাদের দেশের মেয়েরা যত্নশীল হয়ে থাকেন। এই যেমন কেউ অসুখ হলে মা কিংবা বোনের সেবা চান। কেননা আমাদের দেশের মেয়েরা সামাজিকভাবেই সেবার মনন নিয়ে জন্মায়।