মেয়ে হয়ে জন্মেছি তাই মনে হয়, ‘জন্ম আমার আজন্ম পাপ’। তবু নিজেকে নিয়ে ভাবি না, ভাবতে চাই সমাজকে নিয়ে, নিজের মাতৃভূমিকে নিয়ে আর মাতৃভূমির মানুষকে নিয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ জোয়ারে ভেসেছে পুরো পৃথিবী, এদিক দিয়ে বিশ্বকাপ জোয়ারে ভাসা থেকে পিছিয়ে ছিল না আমাদের বাংলাদেশ, শুধু খেলাতে তারা পিছিয়ে। আমার মনে হয় আমাদের দেশের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে কিছু শিখে না, শুধু সাধারণ মানুষের মত আনন্দ পায়। বিশ্বকাপ ওদের কিছু শিখায় না, আর ওরাও শিখতে চায় না। যদি ফুটবল বিশ্বকাপকে আমরা শিক্ষক হিসেবে মানতাম নিয়মিত অনুশীলন করতাম তাহলে আমাদের জাতীয় ফুটবল দলের এত অধঃপতন হত না, আমাদের জাতীয় ফুটবল দল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৫ জুলাই ১৯৭২ সালে, আর ফিফা অনুমোদন পায় ১৯৭৪ সালে। এই বছর ফিফা অনুমোদনের ৪০ বছর পূর্ণ হল, এই ৪০ বছরে ফিফা আমাদের কি দিলো একটি অনুমোদন সনদ আর ফিফা র?্যাংকিং-এ দেশের জাতীয় ফুটবল দলের অবস্থান। ফিফা র্যাংকিং-এ আমাদের অবস্থান ১৬৩ এপ্রিল ২০১৪। আমাদের জাতীয় ফুটবল দল ভাল খেলতে শুরু করে ১৯৮০ সাল থেকে, যার ফলে ১৯৯৬ সালে ফিফা র্যাংকিং-এ আমাদের অবস্থান হয় ১১০, এটিই ছিল আমাদের ফুটবল ইতিহাসের মহেন্দ্রক্ষণ। এরপর আমাদের ফুটবল আর আলোর মুখ দেখল না, দিনে দিনে ভারী হতে থাকলো অবনতির পাল্লা। আজও তেমনই আছে। আসলে আমরা জয়ী হয়ে জয় উল্লাসে মেতে ওঠার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছি, তাই নিজেদের জয় হোক ওটা চাই না, অন্যের জয়ে নাচতে চাই আর গাইতে পারি গলা ফাটিয়ে। আমাদের বাঙালি মন খুব উদার নিজের জন্য কিছু করতে পারি আর না পারি, অন্যের জন্য হাততালি হলেও দিতে পারি। আমরাও একদিন বিশ্বকাপ খেলবো এই কথা কোনোদিন স্বপ্নেও ভাবি না। যদি ভাবতাম আমরাও জয়ের আনন্দে এতদিনে এগিয়ে যেতাম। বেসিক্যালি এটা আমাদের মানসিকতার সমস্যা। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আমাদের সমাজনীতি, অর্থনীতি, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি কোনো কিছুতে উন্নতি সম্ভব হবে না। তাই সবার আগে দরকার আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন। আমি মনে করি স্বপ্নবাজ তরুণরা করতে পারবে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আর তারাই গড়তে পারবে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ। আমার ইচ্ছে আছে যতদিন পৃথিবীতে বেঁচে আছি ততোদিন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। আর মেয়ে হয়ে নয়, সমাজে মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই।
