ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধের দাবিতে সারাবিশ্বে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোতে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। এদিকে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ৭২ ঘন্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনায় আজ সোমবার প্রতিনিধি পাঠাবে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। যুদ্ধবিরতি গতকাল রবিবার গ্রিনিচ মান সময় ১১ টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। খবর বিবিসি, গার্ডিয়ান ও আল-জাজিরার।
মিসর জানিয়েছে, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষ তিনদিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি একটা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির দিকে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে আলোচনায় ইসরাইলি কোনো প্রতিনিধি না পাঠানোর ঘোষণা দেয়া এবং ফিলিস্তিন প্রতিনিধিদের দেশে ফিরে যাওয়ার হুমকির কারণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। গত শুক্রবার তিনদিনের যুদ্ধবিরতির শেষ হওয়ার পর ইসরাইল আবারো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও কয়েকটি দাবি না মানতে ইসরাইল রাজি না হওয়ায় হামাস প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। এরপর শুক্রবার থেকে ইসরাইল আবারো গাজায় হামলা শুরু করে। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় প্রায় দুই হাজারের মতো মানুষ নিহত হয়েছে যাদের শতকরা ৭৩ ভাগ বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে শিশু রয়েছে সাড়ে চারশ। ইসরাইলি হামলা থেকে বাদ যায়নি মসজিদ, স্কুল, এমনকি জাতিসংঘের আশ্রয়কেন্দ্রও।
গাজায় ইসরাইলি আক্রমণ বন্ধ করতে লন্ডনে গত শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ২০ হাজার লোক বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। এসময় বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ দেখা দেয়। ব্যানারে লেখা ছিল-‘গাজায় গণহত্যা বন্ধ কর, ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর। বিক্ষোভকারীরা লন্ডনের বিবিসি অফিস হয়ে মার্কিন দূতাবাস অতিক্রম করে পোর্টল্যান্ডে যান। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ইহুদি অনেক মা-বাবা তাদের শিশুদের নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা গাজায় ইসরাইলের বেসামরিক নাগরিক হত্যা বন্ধের আহবান জানান। এদের অনেককে উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা বলেন, ফিলিস্তিনকে মুক্ত কর এবং লজ্জার, বারাক ওবামা। এসময় একটি বড় ফিলিস্তিন পতাকা মেলে ধরা হয়। ৩৪ বছর বয়সী স্বাস্থ্য কর্মী রিমে হাদরী বলেন, আমি এই সমঝোতার যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানাচ্ছি। আমি এখানে অংশ নিয়েছি। কারণ আমাদের সরকার যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ৬০ বছর ধরে এই অন্যায় চলছে। এখানে বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে। লোউ এভারতি বলেন, ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্য। তারা সমাধান না করে ভিন্ন কিছু করছে। লন্ডন ছাড়াও ম্যানচেস্টার, এডিনবার্গ এবং ডাবলিনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটেনের সরকারকে ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের জন্য লেবার দলসহ বিভিন্ন ব্যক্তি চাপ দিচ্ছেন। গাজায় হামলায় ব্রিটেনের তৈরি অনেক অস্ত্র ব্যবহূত হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটু। এই বিক্ষোভ সমাবেশকে সমপ্রতি বর্ণবাদবিরোধী এক বিরাট বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। বিক্ষোভে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার প্রতি আহবান জানান।
