গুটিয়ে আনা হচ্ছে উদ্ধার কাজ

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৭
মাওয়ায় পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ ‘পিনাক-৬’ উদ্ধারের কাজ গুটিয়ে আনা হচ্ছে। লঞ্চডুবির সপ্তম দিনে রবিবার দুপুরে উদ্ধার অভিযান থেকে অনুসন্ধানকারী জাহাজ কাণ্ডারী-২, জরীপ-১০ এবং উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক ও রুস্তম ছাড়া বাকি সব ইউনিট প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। এদিকে গত শনিবার দুর্ঘটনাস্থলের কাছে নদীর তলদেশে একটি ধাতব বস্তুর সংকেত মিললেও তা পিনাকের কিনা এখনও তা নিশ্চিত করতে পারেনি উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ। ধাতব বস্তুটি চিহ্নিত করার ব্যাপারেও অগ্রগতি নেই। কাণ্ডারী-২ এটি সনাক্তে রবিবার মাত্র চার ঘন্টা চেষ্টা চালায়। কিন্তু কোন অগ্রগতি মিলেনি। মাওয়া পদ্মা সেতু রেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পদ্মা নদীর ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সাতদিন ধরে দফায় দফায় তল্লাশি চালিয়ে ধাতব বস্তুর ইমেজ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই ভেসে ওঠা মৃতদেহ উদ্ধার ও ধাতব বস্তুর ইমেজ যাচাই-বাছাই কাজ অব্যাহত রেখে অনুসন্ধান কাজ সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জাহাজ কাণ্ডারী-২ ও জরিপ-১০ ছাড়া উদ্ধার কাজে নিয়োজিত নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিআইডব্লি¬উটিএ ও ফায়ার সার্ভিসকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তাদের ডুবুরী দল উদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ও নির্ভিক ঘটনাস্থলে প্রস্তুত থাকবে। ধাতব বস্তুটিকে এ্যাঙ্করে বাঁধতে পারলে ডুবুরীরা এটিকে নিশ্চিত করার পরই রুস্তম ও নির্ভিক কাজ শুরু করবে। জেলা প্রশাসক বলেন, শনিবার দুপুরে যে ধাতব বস্তুটির ইমেজ ধরা পড়েছে তা পিনাক-৬ লঞ্চের কিনা তা শতভাগ নিশ্চিত হতে একমাত্র কাণ্ডারি-২ ও জরিপ-১০ নামে অনুসন্ধানী জাহাজ কাজ চালিয়ে যাবে। উদ্ধার কার্যক্রমে দেরি হচ্ছে কেন জানতে চাইলে সাইফুল হাসান বলেন, ‘ডুবুরীরা সাধারণত এক থেকে দেড় নটিক্যাল মাইল মাত্রার স্রোত থাকলে কাজ করতে পারে। বর্তমানে পদ্মায় পাঁচ থেকে ছয় নটিক্যাল মাইল মাত্রার স্রোত রয়েছে। এ অবস্থায় ডুবুরীদের কাজ করাও ঝুঁকিপূর্ণ। নদীর স্রোত কমে আসলে ডুবুরীরা পুরোদমে কাজ করবে’। এদিকে কাণ্ডারী-২ এ থাকা একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শনিবার রাত ৮ টার পর হতে উদ্ধার কার্যক্রমের তেমন অগ্রগতি নেই। তবে এ্যাঙ্কর বাঁধার কাজ রবিবার বেলা ১১টা থেকে আবার শুরু হয়েছে। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোত এর কারণে ধাতব বস্তুটিতে এ্যাঙ্কর লাগানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এখনও নিখোঁজ ৬১:এদিকে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে স্থাপিত জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা এএসপি কুতুবুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৬টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে পুুরুষ ১৯, নারী ১৬ ও শিশু ১১ । এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৬১ জন। এর মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ২৪ জন নারী ও ২১ শিশু এখনো নিখোঁজ। স্বজনরা এখন পদ্মাপাড়ে অপেক্ষায় আছেন লাশের জন্য। তবে কবে লঞ্চ উদ্ধার হবে, আর কবে লাশ মিলবে সেই প্রশ্নের উত্তর তাদের কেউ দিতে পারছে না। লঞ্চডুবি দুর্ঘটনায় সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিখোঁজ যাত্রীরা হলেন— মাদারীপুরের শিবচরের বহরখোলা গ্রামের মিজানুর রহমানের কন্যা মিলি (৭), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরের সুলতান দীঘির পাড় এলাকার মিলনের স্ত্রী পলি (২৮), তার মেয়ে মেঘলা (৬), বরিশালের উজিরপুরের ভরাকাট গ্রামের আক্কেলের ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) ও নিখোঁজ মিজানের ছেলে ইমতিয়াজ (৯), মাদারীপুরের শিবচরের ক্রোকচর গ্রামের আব্দুল রহিম মাদবরের ছেলে মিরাজ (৮), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরে বড়দিয়া গ্রামের ইমদাদ মিয়ার স্ত্রী মাকসুদা (২৮), তার ছেলে হানিফ (আড়াই বছর), মাদারীপুরের শিবচরের চর বায়েরকান্দি গ্রামের সিদ্দিক ঘরামীর মেয়ে সাদিয়া (৯), একই এলাকার রায়েরকান্দি গ্রামের লাল মিয়ার শেয়ে ফালানি (২০), বরিশালের গৌরনদীর ভুয়াকাটা গ্রামের সবুজ কাজীর স্ত্রী ময়না (২০) ও তার ছেলে তৌহিদ (৪), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরের আলীপুরের কামরুলের স্ত্রী তাসলিমা (২৫), মাদারীপুরের শিবচরের গুয়াতলা গ্রামের নূরুল হকের মেয়ে ফাতেমা আক্তার স্বর্ণা (১৬), একই এলাকার স্বর্ণামীর চর গ্রামের আনোয়ারের ছেলে বিল্লাল হোসেন (২৩), একই গ্রামের চান মিয়ার ছেলে ফরহাদ (২৭), নিখোঁজ ফরহাদের স্ত্রী শিল্পি (২৫) ও ছেলে ফাহিন (১), নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জের সানারপাড়া এলাকার রিপনের মেয়ে জান্নাত (৬ মাস), ফতুল্লার মাসদারইল এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা (৩৪), তার দুই মেয়ে সারা (১১) ও রোজিনা (১২), একই এলাকার উত্তর নাসিরপুর গ্রামের হালিমা (২০), তানজিমা (১৩), মাদারীপুরের শিবচরের বাঘারকান্দি গ্রামের তারা মিয়ার মেয়ে শাহিনূর (১৭), ফরিদপুরের ভাঙ্গার পল্লীবেড়া গ্রামের মোস্তফা মাতাব্বরের ছেলে রেজাউল (২৮), ফরিদপুর সদরের সাত রশি গ্রামের আলী মাদবরের ছেলে সোবহান মাদবর (৩৭), নিখোঁজ সোবহানের স্ত্রী ইতি বেগম (৩০), তার ছেলে ইভান মাদবর (৮), ওই গ্রামের রুবেলের স্ত্রী শিমুল পারভীন ফরিদা (৩৫), কুমিল্লার বরুড়া থানার পেড্ডা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (৪০), নিখোঁজ রুবেলের মেয়ে ফাইজা (৭) ও ফাতেহা (৪), মাদারীপুরের কালকিনির সিডি খাল গ্রামের সবুজ হাওলাদারের স্ত্রী ফরিদা পারভীন (৪), ফরিদপুর ভাঙ্গার গারুয়া গ্রামের রফিক মাদবরের স্ত্রী সাহিনুর বেগম (২৩), ঢাকার মগবাজারের আমবাগান এলাকার মতিউর রহমানের মেয়ে আফরোজা (১৭), নরসিংদী সদরের মজিদ বেপারীর ছেলে রুবেল (২২), মাদারীপুরের সদরের সর্দারকান্দি গ্রামের দেলোয়ারের মেয়ে লিপি (২৫), ফরিদপুর ভাঙ্গার আমির আল খন্দকারের স্ত্রী আছমা বেগম (২৮), ফরিদপুরের সালতার গট্টি এলাকার মো. সাদির ছেলে আরাফ (৮), গাজীপুরের কাপাশিয়ার ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে মিম আক্তার (১৪), ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল খান গ্রামের মৃত লাল মিয়ার পুত্র মাহবুবুর রহমান (৪২), ফরিদপুরের সদরপুরের শেখ আমিনের ছেলে মো. আজিজুল (২৮), নিখোঁজ আজিজুলের স্ত্রী রূপালী বেগম (২১), মেয়ে আরজু (৭ মাস), ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার সর্মাদি গ্রামের নাছির শেখের স্ত্রী স্বপ্না বেগম (২৬), তার ছেলে আব্দুল্লা (৪), ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আমিনারবাগ এলাকার শফি শেখের ছেলে শেখ আলী (৩৫), মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা পশ্চিম কমলপুর গ্রামের সবুজ গাজীর স্ত্রী তৃষ্ণা (২২), একই জেলার শিবচরের মাগরা পুকুরপার গ্রামের আলী মিয়ার মেয়ে রাবেয়া (১৮), ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হাট্টা গ্রামের বাহাদুর মিয়ার মেয়ে রোজিনা আক্তার (২৬), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার কৃষ্ণদি গ্রামের সালাম মোল্লার ছেলে মিন্টু মোল্লা (২৬), কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হরিণপুরী গ্রামের আবুল কালামের মেয়ে উজালা (১১), ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সরাই বাড়ি গ্রামের সোহরাব মাদবরের ছেলে রবিউল মাদবর, ঢাকার মুগদা এলাকার খোকন শেখের মেয়ে শিল্পী আক্তার নাছরিন (২০), লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর মতিন গ্রামের মৃত আব্দুল রহমানের কন্যা মিরা বেগম (৬০), একই গ্রামের নূর মোহাম্মদের পুত্র মকবুল আহমেদ (৪৫),ঝালকাঠি সদরের শিরজুগ গ্রামের শেখ আব্দুল মজিদের কন্যা শারমিন জাহান মিতু (২৭), একই এলাকার হান্নান হাওলাদের ছেলে মেরাজ (৯), গোপালগঞ্জের মোকসেদপুরের গবিন্দপুরের একরাম শেখের ছেলে নিজাম (২০) ও ফরিদপুরের ভাঙ্গার ডাঙ্গারপাড় গ্রামের হরিমোল্লার ছেলে আল আমিন (২৮)। মেহেন্দিগঞ্জে লাশ উদ্ধার: বরিশাল অফিস ও মেহেন্দিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, উপজেলার মাছকাটা নদী থেকে রবিবার সকালে অজ্ঞাত (২৫) এক তরুণীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি খয়েরি রংয়ের সালোয়ার-কামিজ ও বোরকা পরা অবস্থায় ছিল। ধারণা করা হচ্ছে লাশটি নিমজ্জিত পিনাক-৬ লঞ্চের হতভাগা কোন যাত্রীর। লাশটি বিকেলে মাদারীপুরের শিবচরের কন্ট্রোলরুমে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন নদী থেকে গত পাঁচ দিনে ১৪টি মরদেহ উদ্ধার হলো। ১৬ লঞ্চযাত্রীর পরিবারে আহাজারি: ভাঙ্গা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, মাওয়ায় পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের নিখোঁজ ও নিহত উপজেলার ১৬ জনের পরিবারের কান্না যেন থামছেই না। পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারিয়ে স্বজনরা নির্বাক হয়ে গেছেন। আবার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে কোন কোন পরিবার নি:স্ব হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। উপজেলার ভীমের কান্দা গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পরিবারে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার। পরিবারের ৫ সদস্যকে হারিয়ে ইসমাইল মিয়া এখন পাগলের ন্যায় প্রলাপ বকছেন। নিজে ঢাকায় একটি কোম্পানির দারোয়ান হিসেবে কাজ করেন। বোন তাসলিমা একটি মেসে রান্নার কাজ করতেন। ইসমাইল মিয়া গত ঈদে বাড়ীতে আসেননি। ঈদের ছুটি শেষে বোন তাসলিমা (৫০), স্ত্রী চাঁদনী (৪০), ৩ মেয়ে সাহিদা (১১), সুর্বণা (৮) ও রুমানা (১) ঢাকায় যাচ্ছিল দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের যাত্রী হয়ে। তারপর থেকেই তারা নিখোঁজ। ইসমাইল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনরা আহাজারি করছেন। ওই ৫ জনের সাথে একই লঞ্চে সহযাত্রী হয়ে যাওয়া নিকট আত্মীয় হাবিবুর রহমান জানান, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে লঞ্চটি ঠিকমত চলছিল না। নদীর বাঁক নিতে গিয়ে তীব্র সে াতে লঞ্চটি কাত হয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই চেনা মুখগুলো হারিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও কাউকে পাইনি। একইভাবে উপজেলার খাটরা গ্রামের লোকমান মিয়া পরিবারের ৩ সদস্যকে হারিয়ে বিলাপ করছেন। স্ত্রী আয়েশা (৪০), মেয়ে সারা (১২) ও ভাতিজি রোজিনা (১৩) যেন আবার ফিরে আসবে, এই আশায় বুক বেঁধে আছেন লোকমান। উপজেলার আজিমনগর গ্রামে একই লঞ্চে যাত্রী হয়েছিলেন ভাবী আসমা বেগম (৩০) ও ননদ লিপি বেগম (২০)। ৩ সন্তানের সুখের জন্য দু’জনে বিদেশে পাড়ি জমাতে ঢাকায় যেতে চেয়েছিলেন দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চের যাত্রী হয়ে। লঞ্চ ডুবির ঘটনায় ননদ সৌভাগ্যক্রমে উপরে উঠতে পারলেও ভাবী আসমার আর খোঁজ মিলেনি। ঘারুয়া গ্রামে ছলেমান শেখের মেয়ে সাহিনুরের পরিবার, খামিনারবাগ গ্রামে অলি শেখের পরিবার, সড়ই বাড়ীর গ্রামে রবিউল মাতুব্বর ও মেয়ে রাবেয়ার পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। তাদের একটাই দাবি অন্তত প্রিয়জনের লাশটি যেন তারা পান। এদিকে ওই ১৬ জনের মধ্যে মাত্র ২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামের নিখোঁজ শহীদ তালুকদারের (৪০) লাশ গত শনিবার উদ্ধারের পর রাতে দাফন করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাজী মো. আসাদুজ্জামান কবির সরকারের পক্ষ থেকে দাফন কাজের জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা তার পরিবারের কাছে প্রদান করেন। এছাড়া শনিবার বেলা ১১টার দিকে হাতিয়ার ইসলামপুর থেকে উপজেলার নাছিরাবাদ ইউনিয়নের ভদ্রকান্দা গ্রামের নিখোঁজ ইব্রাহিম খানের পুত্র আহমেদ খান ওরফে টিটন খানের (৪২) লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা ফোনে এই প্রতিবেদককে জানান, লাশ আনার জন্য তারা শিবচরের পাঁচ্চর স্কুল মাঠে রয়েছেন।