যশোরে হতদরিদ্র ৪০ তরুণ-তরুণী খুঁজে পেল জীবনসাথী

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
যশোরে শার্শা উপজেলার সম্বন্ধকাঠি গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে রুমি খাতুন। বিয়ের বয়স হলেও আর্থিক দৈন্যের কারণে আব্দুল খালেক মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিলেন না। তার এই অক্ষমতা কাটাতে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল। যৌতুক কিংবা কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই রুমি খাতুনের বিয়ে হয়েছে ঝিকরগাছার লাউজানি এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে রিপন হোসেনের সঙ্গে। শুধু এই এক জোড়া নয়, এ রকম ২০ জোড়া তরুণ-তরুণীর বিয়ে হয়েছে রবিবার যশোরের ঝিকরগাছা কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্সে। শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল (এসসিআই) আরব আমিরাতের অর্থায়নে এই ২০ জোড়া তরুণ-তরুণীর যৌতুকবিহীন গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। গণবিয়েতে অংশ নেয়া পাত্র ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মনিরুজ্জামান জানালেন, টাকার অভাবে তিনি বিয়ে করতে পারছিলেন না। এই অবস্থায় সংস্থাটি তাদের বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছে। পাত্র সদর উপজেলার ছোট শেখহাটি গ্রামের জামাল শেখ জানালেন, এমন আয়োজনে সবার সাথে যৌতুকবিহীন বিয়ে করতে পেরে তিনি খুবই খুশি। পাত্রী সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের ইরানী খাতুন জানান, যৌতুক এবং বিয়ের খরচ যোগানোর সামর্থ্য না থাকায় তাকে বিয়ে দিতে পারছিলেন না বাবা-মা। এখন যৌতুক এবং খরচ ছাড়া বিয়ে হওয়ায় তারা খুবই খুশি। গাজীর দরগাহ কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্সর প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসিরুল্লাহ জানান, এ নিয়ে তারা ৬ষ্ঠ বারের মতো যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ পর্যন্ত তারা ২৬০ জনের বিয়ে দিয়েছেন। শুধু বিয়ে নয়, নবদম্পতির উপার্জনের ব্যবস্থাও তারা করে থাকেন। বিয়ের সময় ছেলের জন্য একটি ভ্যান ও মেয়ের জন্য একটি সেলাই মেশিন দিয়ে থাকেন। এছাড়া তাদের শাড়ি কাপড়সহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র প্রদান করা হয়। বিয়ের পরও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের খোঁজ-খবর রাখা হয়। রবিবার ঝিকরগাছার কুয়েত ইসলামিক ইয়াতিম কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ গণবিয়ে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর শায়েখ মোহাম্মদ হামদান আল জারী, প্রজেক্ট বিভাগীয় প্রধান শায়েখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান আহমেদ সাআব আল আলী, ডোনার শায়েখ ইউসুফ মোহাম্মদ কাশিম মোহাম্মদ আল আলী ও শায়েখ শেখ মোহাম্মদ কাশিম মোহাম্মদ আল আলী, কেজেআরসি বাংলাদেশ অফিসের বিশেষ প্রতিনিধি মাওলানা নূরুল ইসলাম ও ইয়াতিম বিভাগের কর্মকর্তা ফয়সল আহমেদ।