ভোটার হালনাগাদে ব্যাপক গরমিল

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫০
চলমান ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ব্যাপক গরমিল পেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত নিবন্ধন শেষ হওয়া প্রায় আড়াইশ’ উপজেলার অর্ধেকেই ভোটার কম-বেশি ও তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি উপজেলার কোথাও টার্গেটের চেয়ে অনেক বেশি আবার কোথাও কম ভোটার নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়াও ৪৪ উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে নতুন ভোটারদের তথ্য ফরম ও নিবন্ধন সংখ্যায় গরমিল পেয়েছে ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, হালনাগাদে ভোটার কোথাও খুব বেশি, কোথাও খুব কম হয়েছে। এ সংক্রান্ত বৈঠকে কেন এমনটা হয়েছে, তার চ্যালেঞ্জগুলো জেনেছি এবং কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেছি। হালনাগাদে গরমিল ও নারী ভোটার কম হওয়া নিয়ে রবিবার ভোটার তালিকা হালনাগাদ সমন্বয় কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। ইসির সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে অন্য নির্বাচন কমিশনাররা ছাড়াও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা। কোথাও বেশি-কোথাও কম ভোটার গত ১৫ মে শুরু হওয়া হালনাগাদে দেশব্যাপী ২ বছরের গড়পরতা ভোটার বৃদ্ধি ৫ শতাংশ ধরা হলেও ৪৬টি উপজেলায় ভোটার নিবন্ধন হারে যথেষ্ট হেরফের রয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৮ শতাংশ, সিলেটের জৈন্তাপুরে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ, ভেদরগঞ্জে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, রাঙ্গামাটির লংগদু ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ, হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, সিলেটের গোপালগঞ্জে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ৬ দশমিক ২১ শতাংশ, শরীয়তপুরের ডামুড্যা ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ, খাগড়াছড়ির পানছড়িতে ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, সিলেটের কানাইঘাটে ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, গাজীপুরের কাপাসিয়া ও রাঙ্গামাটির কাউখালীতে ৬ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ভোটার বেড়েছে। অন্যদিকে টার্গেটের চেয়ে কম ভোটার নিবন্ধন হয়েছে- বাগেরহাট সদর ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ, নাটোরের গুরুদাসপুর ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ী ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ, পাবনা সদর ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ, দিনাজপুর সদর ও নাটোরের লালপুর ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ, রংপুরের তারাগঞ্জ ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ, সিরাজগঞ্জ সদর ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ঢাকার ধামরাই ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ, কক্সবাজারের পেকুয়া ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, মানিকগঞ্জের শিবালয় ও রংপুরের গঙ্গাচড়া ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, যশোরের শার্শা ও রংপুরের মিঠাপুকুর ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ, বাগেরহাটের রামপাল ও বরগুনার বামনা ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ও কক্সবাজারের মহেশখালী ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, রাজশাহীর পুঠিয়া ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, রংপুরের বদরগঞ্জ ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বান্দরবান সদর ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রাজশাহীর দুর্গাপুরে ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ভোটার তথ্যে গরমিল ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে ৪৪টি উপজেলার ভোটার নিবন্ধন তথ্যে গরমিল রয়েছে। হালনাগাদের সময় নতুন ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের পর ছবি তুলে তাদের নিবন্ধিত করা হয়। পাশাপাশি স্থানান্তর, সংশোধন ও মৃতদের বাদ দেয়ার কাজও চলে এ সময়। কিন্তু এসব কাজ ঠিকভাবে করেননি হালনাগাদ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের গবেষণা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এর ব্যাখা চেয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দেয়া চিঠিতে বলেছেন, যতগুলো ফরম পূরণ হয়েছে, ডাটা এন্ট্রি হয়েছে তার চেয়ে বেশি। অসম্পূর্ণ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যও প্রদর্শিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভোটারদের নির্ভুল, সঠিক বা সংশোধিত তথ্য দিয়ে তালিকা ঠিক করতে উপজেলার কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছেন পরিচালক। উপজেলাগুলো হচ্ছে-কক্সবাজারের উখিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর, কুমিল্লার হোমনা, লাকসাম, কুড়িগ্রাম সদর, রাজিবপুর, রৌমারী, খুলনার কয়রা, চাঁদপুরের করিমগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা সদর, জামালপুরের মেলান্দহ, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, ঝালকাঠির রাজাপুর, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও ভুয়াপুর, নওগাঁর আত্রাই, ধামুইরহাট ও পোরশা, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, নীলফামারীর সৈয়দপুর, নেত্রকোনার কলমাকান্দা, বরিশালের আগৈলঝাড়া ও মুলাদি, বান্দরবানের লামা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, ভোলার বোরহানউদ্দিন, মানিকগঞ্জের ঘিওর ও শিবালয়, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া ও লৌহজং, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া, যশোরের বাঘারপাড়া, রংপুরের তারাগঞ্জ, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই ও লংগদু, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, সাতক্ষীরার আশাশুনি ও দেবহাটা, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও শরীয়তপুরের জাজিরা। এসব উপজেলার কোনো উপজেলায় হালনাগাদে মৃত ভোটারদের কোনো তথ্য নেই। আবার কোনো উপজেলায় ডাটা এন্ট্রি ফরমের সংখ্যা ও নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা সমান নয়। উল্লেখ্য, গত ১৫ মে শুরু হওয়া ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রথম ধাপে ১৮১টি, দ্বিতীয় ধাপে ২১৩টি এবং তৃতীয় ধাপে ১২০টি উপজেলাসহ সিটি করপোরেশনে হালনাগাদ কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করে ইসি। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ১৮১ মধ্যে ১৭৫টি, দ্বিতীয় ধাপের ২১৩টির মধ্যে ৮০টির কাজ শেষ হয়েছে। তৃতীয় ধাপ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা।