পশুরহাটের ইজারা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও শ্বশুর নূর হোসেনের সম্পত্তির ভাগাভাগি - এর কোন একটি বা কয়েকটি কারণ মিলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির (৪৫) খুন হয়েছেন- প্রাথমিকভাবে এমনটিই মনে করছে পুলিশ। সেভাবেই শুরু হয়েছে তদন্ত। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কেউ গ্রেফতার হয়নি। গতকাল রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় মামলাও হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিবারের সদস্যদের মামলা করার কথা রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করতে পারে।
৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাজী নূর মোহাম্মদের জামাতা জাহাঙ্গীর কবির। হাজী নূর মোহাম্মদ, তার ভায়রা আব্দুল মান্নান ও দেহরক্ষী ইকবাল ২০১২ সালের ১৯ অক্টোবর সাভার এলাকা থেকে গুম হন। এরপর তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও এলাকার আধিপত্য দখল করেন জাহাঙ্গীর কবির। এছাড়াও তিনি আগারগাঁও বিএনপি বাজারের মমতা সমবায় বহুমুখী সমিতির সভাপতি ছিলেন।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, তিনটি কারণ মাথায় নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত, কারা তাকে গুলি করেছে এ ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
অপরদিকে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীরের নামে দু’টি হত্যা মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকাসহ বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। তিনি ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে।
শেরেবাংলানগর থানার ওসি আব্দুল মমিন বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত। এর কারণ হিসাবে পরিবারের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত জাহাঙ্গীর কবিরের ছোট ভাই হুমায়ুন কবির ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে সাংবাদিকদের জানান, আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে অস্থায়ী কোরবানীর পশুরহাট ইজারা নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। গতবছর এই হাটটি তিনি ইজারা নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। তবে এবারের কোরবানীর ঈদে পশুরহাটটির ইজারা তার পাওয়ার কথা ছিল। এটা ছিল দলীয় সিদ্ধান্ত। অপরদিকে তিনি (জাহাঙ্গীর কবির) ছিলেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী। আর এটি আঁচ করতে পেরে প্রতিপক্ষ গ্রুপ ভাড়াটে কিলার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। তবে প্রতিপক্ষ কারা হুমায়ুন কবির তা বলেননি।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ের বিএনপি বাজার বস্তি সংলগ্ন শাপলা হাউজিংয়ের নিজ বাসার সমানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হন জাহাঙ্গীর কবীর। স্ত্রী পারভীন আক্তারসহ স্থানীয়রা তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বেলা ১১টার দিকে জাহাঙ্গীর কবিরের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জাহাঙ্গীর কবীরের লাশ দেখতে গতকাল ঢামেক হাসপাতালে আসেন সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক।
