উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় বসবাসরত পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোক নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত অবস্থায় যুগ যুগ ধরে মানবেতর দিনযাপন করছে। থাকা, খাওয়া, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ যাবতীয় অধিকার বঞ্চিত এসব লোক ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকায় বসবাস করলেও দেখার কেউ নেই। সর্বোপরি জীবন জীবিকার তাগিদে বনভূমির পাহাড়ে জুম চাষাবাদের যে সমস্ত জমি-জমা তারা ভোগ দখল করে আসছিল তাও বেদখল হয়ে যাওয়ার অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদ ও দুর্গম পাহাড়ী এলাকা চোয়াংখালী, মাদারবনিয়া, মনখালী ও পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলা, লালপাইন্যা প্রভৃতি এলাকায় ৫ হাজারেরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বসবাস করে আসছে যুগ যুগ ধরে। সহায় সম্বলহীন এসব উপজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব কোন জমি জমা না থাকায় অন্যের জমি বর্গা চাষাবাদসহ বনভূমির জমি দখল করে জুম চাষাবাদের পাশাপাশি শাকসবজি আবাদ করে জীবন ধারণ করে আসছে। ওই সব জমি-জমা এখন তারা হারাতে বসেছে। অধিকাংশ পরিবারের অভিযোগ, উপকূলীয় এলাকায় জমি-জমার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কতিপয় প্রভাবশালী মহল তাদের ভোগদখলীয় বনভূমির জায়গা জবর দখল করে মোটা অংকের টাকায় অন্যত্র হস্তান্তর করছে। বর্তমানে তাদের আবাস ভূমিতে শত শত বসত বাড়ি নির্মাণ করে স্থানীয়রা বসবাস শুরু করায় তাদের অনিশ্চিত জীবন যাপন করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন তেলখোলা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের উপর-নিচে ও খাদে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করছে শত শত ভূমিহীন লোক। লালপাইন্যা গ্রামের অল্প শিক্ষিত থোয়াইপ্রু রোয়াজা জানান, এখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, থাকা, খাওয়ার তেমন কোন পরিবেশ নাই। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখানে বসবাসরত পরিবারগুলো ঠিকমতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যন্ত সংগ্রহ করতে পারে না। তেলখোলা গ্রামের তৈলাপ্রু চাকমা জানান, অন্যের বাড়িতে মজুরি থেকে দৈনিক দুই-আড়াইশ টাকা পেলেও তা নিয়ে বাজারে যাওয়া যায় না। পথিমধ্যে বটতলী এলাকায় সশস্ত্র ডাকাত দল সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয় হেডম্যান সুনিপুণ চাকমা জানান, ভাল যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে এখানকার বয়োবৃদ্ধ মহিলা-পুরুষ সুচিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় ইউ পি সদস্য মানিক চাকমা জানান, তেলখোলা থেকে থাইংখালী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়কের এক কিলোমিটার কার্পেটিং হলেও বাকী চার কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা এতই খারাপ যে, পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। যে কারণে এখানে বসবাসরতরা বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, তেলখোলা, মোছারখোলায় যে সমস্ত নিতান্ত গরিব পরিবার রয়েছে তাদেরকে বয়স্ক ভাতাসহ ভিজিডির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন যে, এসব এলাকায় বিভিন্ন সমস্যার কারণে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকেরা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এই জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারিভাবে যেসব বরাদ্দ দেয়া হয়, তা যথাযথ বিতরণ করা হয়ে থাকে। সড়ক যোগাযোগের ব্যাপারে তিনি এলজিইডির সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
