কী করে এলো

জীবাণু অস্ত্র

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৩
নানা যুগে আর নানা কারণে জাতিতে জাতিতে যুদ্ধ-বিগ্রহ যেমন হয়েছে তেমনি সময়ের সাথে সাথে পাল্টেছে যুদ্ধাস্ত্রের ধরনও। আর এ প্রেক্ষাপটে বহুদিন ধরেই বিতর্কিত একটি যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে যে অস্ত্রটির কথা আলোচিত হয়ে আসছে তাহলো জীবাণু অস্ত্র। এমনিতেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মহামারি আকারে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার কারণে নানা সময়ে বহু মানুষের মৃত্যু ঘটলেও যুদ্ধের সময় ইচ্ছে করেই কোনো একটি দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এই জীবাণু। যার ফলশ্রুতিতে সরাসরি কোনো আঘাত নয়, বরং দূরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েই মানুষের প্রাণহানী ঘটে। আধুনিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এলেও মানব জাতির ইতিহাসে জীবাণুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস বহু পুরোনো। ধারণা করা হয়ে থাকে যে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মধ্য প্রাচ্যের একদল যোদ্ধার হাত ধরেই প্রথম পরিচিতি পায় এই জীবাণু অস্ত্র। সে সময় হিত্তিত নামে পরিচিত এই জাতির যোদ্ধারা তাদের শত্রু শহরের কাছে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ছয়টি ভেড়া ছেড়ে দিয়ে আসতো। স্থানীয় অধিবাসীরা যখন এগুলোকে কোনো ধরনের সন্দেহ না করেই তাদের শহরে নিয়ে অন্য গবাদিপশুর মতো করে পালতে শুরু করতো তখনই ভেড়ার গায়ে আগে থেকে প্রবেশ করানো র্যাবিট ফিভার এর জীবাণু শহরের অধিবাসীদের মধ্যে সংক্রমিত হতো। আর এই রোগের কারণে অল্প কিছুদিনের মাঝেই মারা যেত শহরের অর্ধেকেরও বেশি অধিবাসী যা হিত্তিতদের জন্য শহরের দখল নেওয়াটাও সহজ করে দিত। হিত্তিতদের পর বহু শতাব্দীর ইতিহাসে জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সরাসরি প্রমাণ না পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিষয়টি আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে। সে সময় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্কটল্যান্ডের গ্রুইনার্ড দ্বীপে ভয়ংকর অ্যানথ্রাক্স জীবাণুকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরীক্ষা চালানো হয়। এই জীবাণু সংক্রমণের পরীক্ষাটি এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে পরবর্তী ৪৮ বছর ধরে দ্বীপটিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখতে হয়। একই রকম ভাবে ১৯৩০ সালে তত্কালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের পরিচালিত এক পরীক্ষার কারণে এরাল সাগরের একটি দ্বীপ চিরতরে মানুষ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে যেখানে র্যাবিট ফিভার, পে¬গ, টাইফাস এবং ভেনিজুয়েলান ইকুইন এনসেফালাইটিস এর মতো একাধিক জীবাণু ছড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া ১৯৭১ সালে রাশিয়ায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি গুটিবসন্তের জীবাণু দূর্ঘটনাক্রমে ছড়িয়ে পড়লে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোর পরীক্ষাগারে এ ধরনের জীবাণু মজুদ থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিবিসি অবলম্বনে।