টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় ফুডস সাপ্লিমেন্টের নামে (ডিব্বা কৌটা) বিদেশি নকল ভিটামিন ক্যাপসুল ও ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। ওষুধের নামে বাজার থেকে তা কিনে নিয়ে কি খাচ্ছেন তা সাধারণ মানুষ ও রোগীরা বুঝতে পারছেন না। ফলে মানুষ হাজার হাজার টাকা খরচ করে রোগ সারানোর জন্য ওষুধ কিনে তারা আরো ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা গোল্ডেন হেলথ কেয়ার নাম দিয়ে কারখানায় নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারজাত করে আসছে। এছাড়া ফুডস সাপ্লিমেন্ট ও এ-টু জেট নাম ব্যবহার করে ভিটামিন ক্যাপসুল তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। উপজেলার ৩০-৪০টি স্থানে বাসাবাড়িতে এ অবৈধ ওষুধ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারক চক্ররা বিভিন্ন কৌশলে ওষুধ উত্পাদন করে বাজারে ছেড়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ কারবার হলেও তাদের কোন মাথাব্যথা নেই।
মির্জাপুরের বিভিন্ন ফার্মেসি ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ফাইল প্লাস্টিকের কৌটা প্রতিটি দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এসব কৌটার গায়ে ইংরেজিতে আকর্ষণীয় বিদেশি ওষুধ লেখা রয়েছে। এসব ওষুধের লেবেলের গায়ে কোন ডিএআর নম্বর নেই এবং উত্পাদন ও মেয়াদের শেষ তারিখও লেখা নেই। জানা গেছে, প্রতারক চক্রের সদস্যরা চীন ও ভারত থেকে এক ধরনের ওষুধ চোরাই পথে আমদানি করে মির্জাপুরে এনে বিভিন্ন কারখানায় মিকচার করে নকলভাবে তৈরি করে নিজেদের ইচ্ছেমত দাম লাগিয়ে বিদেশি সিল মেরে দেয়। ক্যাপসুল খুলে দেখা গেছে ভিতরে শুধু বিট লবণ ও সাদা পাউডার। এদিকে এ ওষুধ খেয়ে রোগী ও সাধারণ মানুষ হার্টের সমস্যা, কিডনি, ক্যান্সার, পাতালা পায়খানা, জন্ডিস, রাতকানাসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি মোঃ হান্নান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালের এবং ক্লিনিকের কিছু অসাধু ডাক্তার এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা মোটা অংকের কমিশন পেয়ে তাদের ব্যবস্থাপত্রে ফুডস সাপ্লিমেন্টের নামে নকল ভিটামিন ক্যাপসুল লিখে থাকেন। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে এগুলো কিনে থাকেন। এসব ডাক্তার ও প্রতারককে গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
মির্জাপুর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক শ্যামল দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের এই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি ভাড়া নিয়ে নামে-বেনামে নকল ওষুধ তৈরি করে বাজারে বিভিন্ন নাম দিয়ে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের সঙ্গে জড়িত রয়েছে মির্জাপুর উপজেলার অলি-গলিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক ও এক শ্রেণীর ডাক্তার এবং তাদের নিয়োজিত দালাল চক্র। ঐসব ডাক্তার মোটা অংকের কমিশন নিয়ে ব্যবস্থাপত্রে ফুডস সাপ্লিমেন্টের নামে নকল ক্যাপসুলের নাম লিখে দেন। রোগীরা না বুঝে দেদারসে বেশি দামে কিনে খাচ্ছে এসব নকল ওষুধ। প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে দাম লেখা রয়েছে ২৫০-৪০০ টাকা পর্যন্ত। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা.তওফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফুডস সাপ্লিমেন্ট ক্যাপসুল নামে যে ওষুধ কৌটায় বিক্রি হচ্ছে এগুলোর ফার্মাসিউটিক্যাল কোন লাইসেন্স নেই। একটি প্রতারক চক্র জনসাধারণকে ধোঁকা দিয়ে এবং কিছু সংখ্যক ডাক্তারের পরামর্শে বিদেশি নাম দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলার সিভিল সার্জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিভিল সার্জনের অফিস সূত্রটি জানান।
