কাপ্তাই বিএফআইডিসির মহামূল্য সম্পদ বিনষ্ট

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩২
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফআইডিসি) কর্ণফুলী কাঠ আহরণ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার সম্পদ বছরের পর বছর অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বিএফআইডিসির ৩টি সি-ট্রাক, ৩টি বার্জ, ২টি ক্রেন, একাধিক ট্রাক্টর, কয়েকটি পিক-আপ গাড়ি, ভারি ও মোটা গাছ পরিবহনের বিশেষ ধরনের গাড়ি, লেদ মেশিনসহ বিভিন্ন প্রকারের মূল্যবান যন্ত্রাংশ বছরের পর বছর ব্যবহার না থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। একসময় এসব মূল্যবান যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও বর্তমানে এগুলোর বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু কিছু যন্ত্রাংশ পানির নিচে এবং মাটির উপর বছরের পর বছর পড়ে থেকে বর্তমানে এমন অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে এগুলোকে এখন চেষ্টা করেও আর সচল করা সম্ভব নয়। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে কাপ্তাই লেকের পানির নিচে প্রকল্পের বেশ কয়েকটি সি-ট্রাক, কার্গো বার্জ, ক্রেনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নিমজ্জিত বা অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় পড়ে আছে। সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় ২০০৫ সালে তত্কালীন সরকার প্রকল্পটি পে-অফ ঘোষণা করে। তখন থেকে এই প্রকল্পের যাবতীয় সম্পদ যেখানে যে অবস্থায় ছিল অযত্নে পড়ে থাকতে থাকতে বর্তমানে অচল অবস্থায় এসে পৌঁছায়। পে-অফে পড়ে থেকে যে শুধু মূল্যবান যন্ত্রপাতির ক্ষতি হয়েছে তা নয়, সেইসাথে মূল্যবান অফিস এবং আবাসিক ব্যবস্থারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। একসময় এলাকাটি লোকজনে জমজমাট থাকলেও বিগত কয়েক বছর এখানে কোন কোলাহল ছিল না। অফিসের দরজা কখনো খোলা হতো না। একসময় প্রকল্পটিকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের আওতায় দেয়া হবে এমন গুঞ্জনও শোনা যায়। প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের টিম একাধিকবার কাপ্তাই এসে প্রকল্পের যাবতীয় মালামাল দেখে তালিকা তৈরি করে এবং ষ্টোররুম সিলগালা করে দেয়। বিগত কয়েক বছর সেই সিলগালা দেয়া তালা আর খোলা হয়নি। এসব কারণে প্রকল্পের সম্পদ আস্তে আস্তে নষ্ট হতে থাকে। তবে কাপ্তাইয়ে অবস্থিত বিএফআইডিসির অপর প্রকল্প ‘লাম্বার প্রসেসিং কমপ্লেক্স’-এর ব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমদ ১১ আগস্ট বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর পে-অফ থাকলেও সমপ্রতি সরকার প্রকল্পটিকে পে-অফ থেকে অবমুক্ত করে দিয়েছে। অর্থাত্ ইচ্ছা করলে বিএফআইডিসি কর্তৃপক্ষ এখন প্রকল্পটি চালু করতে পারবে। তবে এই প্রকল্প চালু করার মত অবস্থায় নেই বলেও তিনি জানান। তথাপি প্রকল্পের জমি কিভাবে কাজে লাগানো যায় এবং যন্ত্রপাতিগুলোর মধ্যে যেগুলো চালু করা যায় সেগুলোকে সচল করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি প্রকল্পের বিশাল কার্যালয়কে কোন ব্যাংক বা এনজিওকে অফিস হিসেবে ভাড়া দেয়া যায়কিনা সেই প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএফআইডিসির চেয়ারম্যানের সাথে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে বিএফআইডিসির চেয়ারম্যান মোঃ সরাফ উদ্দিন আহমেদের সাথে এই প্রতিনিধির কথা হয়। বিএফআইডিসির চেয়ারম্যান কাপ্তাই সফর করে বিএফআইডিসির কর্ণফুলী কাঠ আহরণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করার কথা স্বীকার করেছেন। এর অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হবার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, এখনো যে সম্পদ আছে তাকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় আমরা সেই চেষ্টা করবো। প্রকল্পটি পে-অফ থেকে অবমুক্ত হবার কথাও তিনি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমি অল্প কয়েকদিন হলো বিএফআইডিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিএফআইডিসির সার্বিক উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা নিতে হলে আরো সময় লাগবে বলেও তিনি জানান।