প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৩
ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ছিলো মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে ২০১৫ সালের মধ্যে ৮ শতাংশে উন্নীত করা। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় এরই মধ্যে এ লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে এনেছে সরকার। প্রথম বছর কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কিছু সূচকে অগ্রগতি থাকলেও পরবর্তী বছরগুলোতে তা ধরে রাখা যায়নি। পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় প্রবৃদ্ধি তার লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ অর্থ বছরের সময়কালকে ধরে এ পরিকল্পণা গ্রহণ করা হয়েছিল। মধ্যমেয়াদে অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সম্প্রতি অগ্রগতির প্রতিবেদন তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি)। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্র তৈরির জন্য এখনই সরকারকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় ২০১০ থেকে ২০১৩ মেয়াদে প্রথম তিন বছরে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এসময় গড়ে ৬.৪ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু এ অর্জন ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা (৭.৩%) থেকে কম। এর মূল কারণ হিসাবে বিগত রাজনৈতিক সহিংসতা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে সাথে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম কমে যাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে। গত জানুয়ারি মসে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিনিয়োগ কিছুটা বাড়লেও তা ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটা সহজেই বলা যায় চলতি অর্থ বছরের অর্জন দিয়ে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার বিনিয়োগ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। অন্যদিকে দারিদ্র্য বিমোচনে এসেছে বড় সাফল্য। ২০১৫ সাল নাগাদ দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার সাড়ে ২২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সম্প্রতি হালনাগাদ প্রতিবেদনে চলতি বছরেই এ হার ২৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১০ সালের জরিপ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। বাস্তবায়ন প্রতিবেদন নিয়ে জানতে চাইলে জিইডি সদস্য ড. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, আমরা এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছি। চলতি অর্থ বছরেই ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ শেষ হবে। ২০১৫ সাল থেকে নেয়া হবে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। বর্তমান পরিকল্পনায় যেটুকু অর্জন বাকী রয়েছে সেটুকু পূরণে পরবর্তী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় দিক নির্দেশনা থাকবে। আলোচিত সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ, বৈদেশিক লেনদেনে ভারসাম্যের সূচকগুলো ভালো অবস্থানে থাকলেও মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রায় বেঁধে রাখা যায়নি। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক প্রতিবেদনে লক্ষ্য ৬ শতাংশ থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনো ৭ শতাংশের উপরে রয়েগেছে। নানা সমস্যার পরেও তৈরি পোশাক শিল্পের উপর ভর করে তিন বছরে সার্বিক রফতানি বেড়েছে ৭৭ থেকে ৭৯ শতাংশ। তবে রফতানি পণ্য আটকে আছে তৈরি পোশাক শিল্পকে ঘিরেই। সর্বোপরি রফতানিতে বহুমুখীকরণের অভাবকে বড় সমস্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতি করা, সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে (পিপিপি) শক্তিশালী করা উল্লেখযোগ্য। এর সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানিক সংস্কার জোরদার করা, রফতানিযোগ্য পণ্য বহুমুখী করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না হওয়ার জন্য ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতে গতিশীলতার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যুত্, জ্বালানি, পরিবহন ও অবকাঠামোখাতে উন্নয়নের বড় আকারের লক্ষ্যমাত্রাও ছিল। এখাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে বড় অর্জন উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১০ সালকে ভিত্তি ধরে ২০১৩ সালের মধ্যেই বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতা ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে পিছিয়ে রয়েছে অবকাঠামো উন্নয়নে। সরকারের বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ প্রকল্প দ্রুত সম্পূর্ণ করাসহ প্রকল্প নির্বাচনে অগ্রাধিকার নির্ধারণের তাগিদ রয়েছে। ইতিমধ্যে সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ করছে। এ বিষয়ে ড. শামসুল আলম জানান, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাটিও হবে দিক নির্দেশনামূলক। ইতিমধ্যে এটি প্রণয়নে কাজ শুরু হয়েছে।