মৃত্যুর ঝুঁকি যার বাঁকে বাঁকে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৪
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতু অ্যাকসেস রোড এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে এই মহাসড়ক দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। এই মহাসড়কের বাঁকে বাঁকে ঝুঁকি। সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীরা প্রাণ হারাচ্ছে। বিশেষ করে মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ থেকে নাটিয়াপাড়া পর্যন্ত মহাসড়ক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। গত ১৬ বছরে এই মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০০শ যাত্রী মারা গেছে এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫ হাজার যাত্রী। মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে গিয়ে দেখা গেছে বাঁকে বাঁকে ঝুঁকি থাকায় এবং প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। হাইওয়ে ও থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, সরু রাস্তা এবং অধিকাংশ এলাকার রাস্তা আকাবাঁকা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেতু অ্যাকসেস রোড গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়ক। ১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এ মহাসড়কের গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর ও উত্তরাঞ্চলের ১৭টি জেলার ১২০টি রোডের যানবাহন প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা মোড় থেকে টাঙ্গাইল জেলার এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিমি এলাকায় বাঁকে বাঁকে ঝুঁকি। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো হচ্ছে কালিয়াকৈরের খাড়াজোড়া, কালিয়াকৈর বাস স্টেশনের পশ্চিম পাশ, শিলাবৃষ্টি তেলের পাম্পের পশ্চিম পাশ, সুত্রাপুর, বোর্ডঘর, মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ, হাঁটুভাঙ্গা, সোহাগপাড়া, দেওহাটা, কুমারজানি, পুষ্টকামুরি চরপাড়া, ইচাইল, শুভুল্লা, কদিমধল্যা, পাকুল্লা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, বাঐখোলা, করটিয়া বাইপাস, করটিয়া করাতিপাড়া, টাঙ্গাইল নগর জলফৈ, গারিন্দা, টাঙ্গাইল বাইপাস এবং এলেঙ্গার চারটি বাঁকা স্থান। এই বাঁকা জায়গাগুলোর মধ্যে মাঝখানে ডিভাইডার না থাকায় দুইদিক থেকে আসা যানবাহন ওভারটেকিং করতে গিয়ে কখনো মুখোমুখি সংঘর্ষ আবার কখনো যানবাহন খাদে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা গেছে অদক্ষ চালক দিয়ে যানবাহন চালানো। মহাসড়ক ও যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ভাল ধারণা না থাকায় অদক্ষ চালকের হাতে সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে। মির্জাপুর, দেলদুয়ার, বাসাইল, টাঙ্গাইল সদর ও গোড়াই হাইওয়ে থানা সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২১০ জন, ২০০৬-২০০৮ সাল পর্যন্ত ২১১ জন, ২০০৯-২০১২ সাল পর্যন্ত ১৯২ জন এবং ২০১৩ সাল থেকে চলতি ২০১৪ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১৮৭ জন প্রাণ হারিয়েছে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায়। এদের মধ্যে আহত হয়েছে কমপক্ষে ৫ হাজার যাত্রী। টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে মহাসড়ককে দ্রুত প্রশস্ত করে চার লেনে রূপান্তর করতে হবে। আকাবাঁকা রাস্তা সোজা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বাস স্টেশনে ওভারব্রিজ দিতে হবে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। মহাসড়ক চার লেন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওভারব্রিজ নির্মাণসহ চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অল্পদিনের মধ্যে এ মহাসড়কে চার লেনের কাজ শুরু হবে।