কুড়িগ্রামে ইউপি মেম্বার যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৬
কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার ও ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি তারা মিয়াকে (৩৪) কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। চরের খাস জমি, আধিপত্য বিস্তার ও নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা মেম্বারকে কুপিয়ে হত্যা করে লাশ ব্রহ্মপুত্র নদের কিনারে ফেলে রাখে। এ সময় আরো ৪ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রবিবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে ব্রহ্মপুত্র নদের বিচ্ছিন্ন কীর্তনতারি চরাঞ্চলে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার নূরুল হক (৪৫), আব্দুর রহিম (৪৩) ও ফরিসউদ্দিন (৩২) ৩ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। সাবেক মেম্বার নূরুল হক পালিয়ে যাওয়ার সময় জামালপুরের বক্শীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যে জানা গেছে, রবিবার সন্ধ্যারাতে তারা মেম্বার বড়বেড় চরের হাটবাজারে একটি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ধাওয়া করে একটি বাড়িতে আটকে রাখে। অবরুদ্ধ অবস্থায় মেম্বার থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে বার বার ফোনে সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যান তাকে কোনো সাহায্য করেননি। খবর পেয়ে তারা মেম্বারের পক্ষের লোকজনও এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় আবারো সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা রামদা, ছুরি উঁচিয়ে চিত্কার করে মেম্বারের সঙ্গে থাকা লোকজনকে চলে যেতে বলে এবং এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা আরো ৪ জনকে কুপিয়ে আহত করে। রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন জাহিদুল ইসলাম (১৮), সরদুল আলম (৪০), আবু তালেব (৩৮) ও মতিয়ার রহমান (৩৫) জানান, প্রায় ৫০/৬০ জন তাদের ওপর হামলা করে তারা মেম্বারকে ছিনিয়ে নেয়। ঢুষমারী থানার ওসি ফরিদ হোসেন জানান, ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো যারা জড়িত তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।