গাজায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় মিসরে আলোচনা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪০
গাজায় নতুন করে তিনদিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এখন একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মিসরে আলোচনা চলছে। এর আগে রবিবার মিসরের মধ্যস্থতায় গতকাল সোমবার থেকে গাজায় নতুন করে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের কয়েকটি দল। আলোচনায় যোগ দিতে একটি ইসরাইলি প্রতিনিধি দল মিসরে পৌঁছেছে। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতির পর বাসিন্দারা ঘরের বাইরে আসতে শুরু করেছেন। জীবনযাত্রায় আস্তে আস্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসছে। খবর বিবিসি’র। গত শুক্রবার সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি শেষ হবার পর ইসরাইলি হামলায় নতুন করে অন্তত ২০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। মিসরের মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এটি দীর্ঘস্থায়ী একটি সমাধানের পথ প্রশস্ত করবে। রবিবার মিসরের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে উভয়পক্ষই বেশ সময় নেয়। গতকাল ইসরাইলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কায়রোর আলোচনায় ফল না মিললে নিরস্ত্রীকরণের জন্য গাজা পুনর্দখল করা হতে পারে। কায়রোর আলোচনায় গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ করাই ইসরাইলের মূল দাবি। পাশাপাশি তাদের দাবি, হামাস যাতে সুড়ঙ্গগুলো আবার তৈরি না করে। দুটি প্রস্তাবেই নারাজ হামাস। অন্যদিকে, হামাসের দাবি, গাজা থেকে ইসরাইল ও মিসরের অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। কিন্তু অবরোধ উঠলে হামাস তা অস্ত্র সংগ্রহের কাজে লাগাতে পারে বলে রাজি নয় ইসরাইলও। শুক্রবার ইসরাইল প্রতিনিধি দল মিসর থেকে চলে যান। ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দল হুমকি দেন, ইসরাইলি প্রতিনিধি দল না আসলে তারাও চলে যাবেন। হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির আগে তারা কয়েকটি রকেট ইসরাইলে নিক্ষেপ করেছে। আর ইসরাইলি মুখপাত্র মার্ক রেগেভ বলেন, আমরা আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রস্তুত। হামাস যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি জানিয়েছেন, তাদের একটি প্রতিনিধি দল মিসরের আলোচনায় যোগ দিচ্ছে। তবে সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে বন্ধে এটাই শেষ সুযোগ। গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার। যাদের মধ্যে সাড়ে চারশ শিশুসহ শতকরা ৭৩ ভাগ বেসামরিক নাগরিক রয়েছে।