দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের মধ্যে বিবদমান দ্বন্দ্ব নিরসন ও একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ক্যাম্পাস বন্ধে ইউজিসির কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না। ফলে অবৈধ শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনাসহ শিক্ষার নামে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করে যাচ্ছে। শাখা ক্যাম্পাস বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চাওয়া হলেও কার্যকর কোন ফল দেখছে না শিক্ষার্থীরা। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসন না হওয়ার জন্য আদালতের স্থগিতাদেশ ও মামলা জটকে দায়ী করলো ইউজিসি।
চলতি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে দেশে চালু থাকা ৭৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা সম্বলিত একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ইউজিসি। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি হওয়া থেকে রক্ষা করা। ভর্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকানা ছাড়া অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাতে প্রতারিত না হয় সে লক্ষ্যেই এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ইবাইস ইউনিভার্সিটির দুটি মালিক পক্ষ রয়েছে। উপাচার্য দুইজন। দুইটি পরিচালনা পরিষদ। প্রত্যেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কর্তৃপক্ষ বলে দাবি করছে। দুই পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা ও পরিচালনার বৈধ কর্তৃপক্ষ দাবি করে আদালতে গিয়েছেন। একটি পক্ষের প্রধান জাকারিয়া লিংকন। তিনি ইবাইস ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের মালিক কাওসার হোসেন ও পারটেক্স গ্রুপের মালিকের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে আছেন আরিফুর রহমান। তাদের রয়েছে তিনটি ক্যাম্পাস। ধানমন্ডিতে দুটি আর লালমাটিয়ায় একটি। ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদনকালীন ঠিকানা: বাড়ি নং ২১/এ, রোড নং-১৬ (পুরাতন), ধানমন্ডি। এই ঠিকানা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে ইউজিসি।
দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গ্রুপ। রয়েছেন একাধিক ভিসি। আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে তারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার নামে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শাখা। ইউজিসি বলছে, প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদনকালীন ঠিকানা বাড়ি নং-২১ (নতুন) রোড নং-৯/এ (নতুন), ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা।
প্রাইম ইউনিভার্সিটিতেও দুটি গ্রুপ। একটি মিরপুর, অন্যটি উত্তরায়। ইউজিসি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বলছে, মিরপুরের ক্যাম্পাসটি বৈধ। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী এটি স্বীকৃত ঠিকানা। এর বাইরের ক্যাম্পাসগুলো উচ্ছেদের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালিকানা দ্বন্দ্বের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাধিক ট্রাস্টি বোর্ড ও একাধিক শাখা ক্যাম্পাস। মালিকানা দ্বন্দ্ব নিরসন করা গেলে শাখা ক্যাম্পাসও বন্ধ হয়ে যাবে। ইউজিসি জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নির্বাহী হলেন উপাচার্য। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বা পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে উপাচার্য যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় যা এ সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এরূপ অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে ইউজিসির নিষেধাজ্ঞার ওপর উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ ও মামলা জটের কারণে দীঘদিন যাবত্ ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার নামে তথাকথিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিশ্চিত নন ও সার্টিফিকেট বিক্রির মতো অনৈতিক ও গর্হিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা বন্ধ করা শুধু ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকাই যথেষ্ট নয়। এই নীতি বর্জিত কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, বিচার বিভাগ ও ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউজিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ইউজিসির যে ক্ষমতা রয়েছে, তার মাধ্যমে সংকট নিরসন কোনভাবেই সম্ভব হবে না। ইউজিসির ক্ষমতায়নের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তর জরুরি।
