কিশোরী মহিমার স্বপ্ন

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৪৬
পুরো নাম মহিমা হক। সবাই তাকে মহিমা বলে ডাকে। মহিমা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। লেখা পড়ার পাশাপাশি বই পড়তে, গান শুনতে, ভ্রমণ করতে পছন্দ করে সে। তবে ছোট বেলা থেকেই আঁকা আঁকির দিকে ঝোঁকটা একটু বেশি। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছবি আঁঁকতে ভাল লাগে তার। ছবির চেয়ে ডিজাইন বা নকসা আঁকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে সে। তাই সুযোগ পেলেই লেখা পড়ার ফাঁকে ফাঁকে আঁকা আঁকির সরঞ্জাম নিয়ে বসে যায় মহিমা। আপন মনে ইচ্ছে মত আঁঁকতে থাকে নানা রকম সুন্দর সুন্দর নকশা। কথা হয় ভদ্র, বিনয়ী ও শান্ত প্রকৃতির কিশোরী মহিমার সাথে। জানা যায়, জিওমেট্রিক ও নেচারাল- এ দু’ ধরণের নকশার মধ্যে নেচারাল নকশা আঁঁকতে অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দ করে সে। তবে নেচারাল ও জিওমেট্রিক নকশার সমন্বয়ে অঙ্কিত নকশা অধিকতর আকর্ষণীয় হয় বলে জানায় মহিমা। নকশা আঁঁকার জন্য জেলপেন, মার্কার, সাইন পেন ও পেন্সিলের প্রয়োজন হলেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে মহিমার বেলায়। পেন্সিল ব্যবহার না করে সরাসরি জেলপেন, মার্কার এবং সাইনপেন দিয়ে নকসা এঁকে অভ্যস্ত মহিমা। নকশা আঁকায় ক্লাসে বরাবরই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে থাকে সে। তার আঁকা নকশা গুলো বেশ চমত্কার। নকশাঙ্কনের ক্ষেত্রে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথে কিছু অসুবিধার কথা জানায় সে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকলেও নকশাঙ্কন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়না বললেই চলে। নকশার ক্ষেত্রে শিশু শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশ ও যাচাইয়ের জন্য এটি একটি অসুবিধা এবং নকশাবিদ হবার স্বপ্ন পূরণের অন্তরায় বলে মনে করে সে। তার মতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নকশাঙ্কন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকা উচিত। মানুষ সুন্দরের পূজারি। তাই ফ্যাশন ডিজাইনার বা নকশাবিদ হয়ে সৌন্দর্য পিপাসু মানুষ গুলোকে সুন্দর বসনে ভূষিত করে তৃপ্ত করার সোনালী স্বপ্ন দেখছে মহিমা। শুধু তাই নয় দেশ ও জাতির কল্যাণে একজন সত্, আদর্শ নারী হিসেবে গড়ে উঠতে চায় মহিমা হক। তার বিশ্বাস একদিন পূর্ণ বিকাশ ঘটবে তার সুপ্ত প্রতিভার। উন্মোচিত হবে সফলতার দ্বার। ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বৈন্যা গ্রামের এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এই মহিমা হক। বাবা আন্তর্জাতিক একটি সংস্থার চেয়াম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. এনামূল হক আইয়ুব এবং গৃহিনী মা ফারহানা হক। চার বোনের মধ্যে কনিষ্ঠ মহিমা। বাবা-মা ছাড়াও বড় চাচা প্রাক্তন সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ এবং মেঝো চাচা পাকিসত্মানের হাই কমিশনার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তার প্রিয় মানুষ। মিজানুর রহমান