চট্টগ্রাম মেডিক্যালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে গত ছয় মাস ধরে কোনো জটিল অপারেশন হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, জনবল সংকটের কারণে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক দল এসে জটিল অপারেশনগুলো করতেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ৬ মাস ধরে চিকিত্সকরা আসছে না। এর ফলে হূদরোগের জটিল অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
২০১২ সালের এপ্রিলে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আলাদাভাবে কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কার্ডিয়াক সার্জারির জন্য চিকিত্সা সরঞ্জাম বসানো হয়। চিকিত্সক, নার্সসহ ৯০টি পদ সৃষ্টি করা হয়। কিন্তু আড়াই বছরেও এসব পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।
চিকিত্সকরা জানান, জনবল নিয়োগের জন্য অসংখ্যবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় চট্টগ্রাম মেডিক্যালে কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডের জনবল নিয়োগ পাচ্ছে না।
কার্ডিয়াক ওয়ার্ডে বর্তমানে ৮ জন চিকিত্সক রয়েছে। এদের মধ্যে একজন চিকিত্সক ছাড়া বাকিরা জটিল অপারেশনে অনভিজ্ঞ। পূর্ণাঙ্গ টিম না থাকায় অপারেশনের ঝুঁকি নিচ্ছে না কর্মরতরা। নেই আইসিইউ ওটি নার্স।
কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওয়ার্ডে চিকিত্সাধীন কোনো রোগী নেই। অপারেশনের জন্য ৪-৫ জন হূদরোগী অপেক্ষা করছেন। এসব রোগী কয়েক মাস ধরে অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ধর্না দিচ্ছে। এদের মধ্যে নুরজাহান নামে এক রোগী জানান, দুই মাস আগে চিকিত্সক বলেছেন হার্ট সার্জারি করতে হবে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে অপারেশন করতে টাকা খরচ কম হওয়ায় এখানে এসেছেন। এসে জানতে পারেন ওটি নার্স না থাকায় তার অপারেশন করা সম্ভব নয়। পরে জানা গেল, ওটি নার্স এক মাসের প্রশিক্ষণে দেশের বাইরে আছেন।
এ প্রসঙ্গে কার্ডিয়াক সার্জারি ওয়ার্ডের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। চালু হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত ছোট-বড় ৮০টি অপারেশন হয়েছে।’
চিকিত্সকরা জানান, বেসরকারি হাসপাতালে একজন রোগীর হার্ট সার্জারি করতে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়। আর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল সরকারি হওয়ায় এখানে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ করে হূদরোগীরা অপারেশন করতে পারছে। ঢাকা থেকে চিকিত্সক টিমের আসা-যাওয়ার খরচ নিয়ে একজন রোগী ৪০/৫০ হাজার টাকার মধ্যে ওপেন হার্ট সার্জারি করতে পারতেন। কিন্তু এই চিকিত্সক টিম আসা বন্ধ করে দেয়ায় চট্টগ্রামের রোগীরা কম খরচের এই চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
