দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উত্পাদিত চিনি এখন গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত তিন মাড়াই মৌসুমের প্রায় ৬০ কোটি টাকার চিনি এখনও বিক্রি হয়নি। এই ১৪ হাজার টন চিনি কেরুর গুদাম ছাড়াও ট্রেনিং কমপ্লেক্স, প্রাইমারি স্কুল ভবন, কেরু ডিএস ভবন ও অফিসার্স ক্লাবে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এদিকে ডিলাররা বলছেন, কেরুর চিনির মান ভাল হলেও তারা নানা কারণে বেসরকারি কোম্পানির চিনির প্রতি ঝুঁকছেন। আর বেসরকারি কোম্পানির চিনি বিক্রি করে লাভও হয় বেশি।
অনেকদিন পড়ে থাকায় কেরুর চিনি লালচে হয়ে গলতে শুরু করেছে। আসন্ন মাড়াই মৌসুম নভেম্বরের শেষের দিকে, আগের চিনি বিক্রি না হওয়ায় নতুন উত্পাদিত চিনি কিভাবে এবং কোথায় রাখা হবে তাই নিয়ে কর্তৃপক্ষ বেশ চিন্তায় পড়েছে।
চিনি কেন বিক্রি হচ্ছে না- এ বিষয়ে অত্র অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চিনি ডিলার আবেদ আলী জানান, কেরুর উত্পাদিত চিনি গুণে মানে অত্যন্ত ভালো আমরা জানি। কয়েকটি কারণে বেসরকারি কোম্পানির চিনির প্রতি বেশি উত্সাহ ডিলারদের। প্রথমত:বেসরকারি চিনিকলের উত্পাদিত চিনি দেশের সকল জেলায় চিনি ব্যবসায়ীদের কাছে বাকিতে দেয়া হচ্ছে। বেচাকেনার পর কোম্পানি টাকা নিয়ে যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত: বেসরকারি চিনিকলের উত্পাদিত চিনি কেরুর চিনির চাইতে বাজার মূল্য কম। আর এই চিনি সাদা ধবধবে হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশি। তাই ব্যবসায়ীরা এগুলো বিক্রি করছে বেশি, লাভও হচ্ছে বেশি।
তৃতীয়ত: বেসরকারি চিনিকল কর্তৃপক্ষ জেলায় জেলায় নিজস্ব প্রতিনিধি নিয়োগ করে সংস্থার নিজ খরচে ও উদ্যোগে চিনি পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ব্যবসায়ীরা বেসরকারি চিনিকলের উত্পাদিত চিনিতে ঝুঁকে পড়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের নির্দেশে কেরু কোম্পানি থেকে চিনি উত্তোলন করতে হলে অগ্রীম ব্যাংক থেকে ডিডি করে চিনি উত্তোলন করতে হয়। সেই চিনি আবার নিজ খরচে নিয়ে যেতে হয়। তাছাড়া চিনিটা দেখতে লালচে এবং ভেজা। এ কারণেই ক্রেতারা কেরু এ্যান্ড কোম্পানির চিনি নেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেও চিনির চেহারা দেখে পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদেরও লোকসান গুণতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের অধীন যে কয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রয়েছে সবগুলোর অবস্থায় একই ধরনের। এ ব্যাপারে কেরু এ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ আজিজুর রহমান জানান, আশা করছি আসন্ন মাড়াই মৌসুম আসার আগেই আরো কিছু চিনি বিক্রি হয়ে যাবে এবং গুদাম খালি হয়ে যাবে। তাছাড়া বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে আলাদা গুদাম করা হবে নাকি বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হবে।
