বিশ্বজুড়ে সমপ্রতি আলোচিত প্রাণঘাতী ইবোলা সংক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিত্সায় পরীক্ষমূলক একটি ওষুধ পেতে যাচ্ছে লাইবেরিয়া। অপরীক্ষিত এই ওষুধটির নাম জেডম্যাপ। গতকাল মঙ্গলবার লাইবেরিয়ার সরকার এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। ইবোলা ভাইরাসের চিকিত্সায় অপরিক্ষিত ওষুধও ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা । খবর বিবিসির।
লাইবেরীয় সরকার জানিয়েছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সার্লিফ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ওষুধের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র দিতে সম্মতি জানিয়েছে। এ ধরনের নতুন চিকিত্সার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করতে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আয়োজিত চিকিত্সা নীতি বিশেষজ্ঞদের এক বৈঠক চলা অবস্থায় খবরটি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইবেরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে জেডম্যাপ ওষুধের প্রস্তুতকারী কোম্পানি ম্যাপ বায়োফার্মাসিউটিক্যালের যোগাযোগ করিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে শুধু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন তারা।
সমপ্রতি আফ্রিকা থেকে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসা দু’জন ত্রাণকর্মী নাগরিকের চিকিত্সায় জেডম্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। ওষুধটি ব্যবহারের পর থেকে তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে লাইবেরিয়ায় ইবোলা আক্রান্ত এক রোমান ক্যাথলিক যাজককেও স্পেনের মাদ্রিদের এক হাসপাতালে জেডম্যাপ দিয়ে চিকিত্সা করার পর তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলা হলেও, তিনি মঙ্গলবার মারা যান। এর আগে শুধু বানরের ওপর ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়েছিল। মানুষের ক্ষেত্রে ওষুধটির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরাপদ এমন কোনো নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যায়নি। ম্যাপ ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকায় পাঠানোর পর তাদের হাতে সরবরাহ করার মতো আর ওষুধ নেই। সব ক্ষেত্রেই ওষুধটি বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৩ জন মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮শ ৪৮ জন। সোমবার প্রকাশিত তথ্যে আরো বলা হয়, গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরালিওন ও নাইজেরিয়া আফ্রিকার এ চারটি দেশে মূলত ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এ চারটি দেশে গত ৭ থেকে ৯ আগস্ট ৫২ জনের মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে।
