তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানা নতুন করে চালুর কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে এসব কারখানা চালুর দাবিতে আবারো আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে বাম ঘরানার শ্রমিক সংগঠনগুলো। এ আন্দোলনে তোবা’র শ্রমিকদের অগ্রভাগে রাখারও চিন্তা চলছে। তোবা’র কারখানা চালু প্রশ্নে সোমবার বৈঠক করেছে আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনগুলো। ওই বৈঠকে নতুন আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আন্দোলন কর্মসূচির পাশাপাশি আইনীভাবেও এগুতে চায় তারা। আজ বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে এ আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে গতকাল ইত্তেফাককে জানিয়েছেন তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু। তিনি বলেন, তোবা গ্রুপের মেশিনপত্র বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। মেশিনপত্র কারখানা থেকে নামিয়ে নেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে কারখানা আর চালু হচ্ছে না। সেটি হলে নতুন করে দেশব্যাপী আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কারণ ১৬শ’ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে নতুন আন্দোলনের বিষয়ে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, সব দাবি পূরণ হওয়ার পর আর আন্দোলনের কী অর্থ হতে পারে। বন্ধ কারখানার নিয়মিত বেতনের বিধান নেই জানিয়ে তিনি বলেন, চালু কারখানা বন্ধ করতে হলে ৪ মাসের বেতন দিয়ে বন্ধ করতে হয়। কিন্তু বন্ধ কারখানার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। তোবার কারখানাগুলো তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
বিজিএমইএর সহসভাপতি এস এম মান্নান কচি ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে একজন উদ্যোক্তা নি:স্ব হয়ে গেলেও তার পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কারখানা বন্ধ ঘোষণার (এক্সিট পয়েন্ট) ব্যবস্থা নেই। তোবা’র মালিক দেলোয়ার হোসেনের কোটি কোটি টাকা দায়ের বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই দু:সময়ে ব্যাংক বা বীমা কোম্পানিও তার পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তাজরীন নিয়ে ১৮ কোটি টাকার বীমা থাকলেও বীমা কোম্পানি একটি টাকাও দিচ্ছে না।
বিজিএমইএ’র সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে, কোন উদ্যোক্তা সংকটে পড়লে সসম্মানে ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কাছে আইন প্রণয়নের দাবি জানাবে বিজিএমইএ। সংগঠনের একজন পরিচালক বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য এক্সিট পয়েন্ট না থাকলে ভবিষ্যতে আর কেউ নতুন করে এ ধরনের ব্যবসায়ে আসতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্রেও চ্যাপ্টার ইলেভেন নামে এ ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
