ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা সদর হাসপাতালের একটি সরবরাহ কাজের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মেসার্স এ হোসেন এন্টারপ্রাইজের সত্তাধিকারী মনির হোসেন টিপু জানান, গত ২৫ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের খাবার, জনবল, মনোহরী সামগ্রী সরবরাহ ও লিলেন ধৌতকরণ সম্পর্কিত ৪টি দরপত্র জমাদানের শেষ দিনে সরকার দলীয় কয়েকজন নেতা ক্যাডারদের দিয়ে পাহারা বসিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়। কর্তৃপক্ষ ৩টি কাজের অনুমোদন দিলেও মনোহরী সামগ্রী সরবরাহের জন্য ২৭ জুলাই পুনঃদরপত্র আহবান করেন। এ কাজে দরপত্র সংগ্রহের শেষ দিন গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৯টি দরপত্র বিক্রি হয়। গতকাল বুধবার দরপত্র জমাদানের শেষ দিনে সকাল থেকেই জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদের পরিচয় দানকারী অনুসারীরা হাসপাতাল চত্বরে পাহারা বসায়।
এ সময় ঠিকাদারদের দরপত্র জমাদানে বাধা দেয়া হয়। আমি সকাল সাড়ে ১১টায় দরপত্র জমা দিতে গেলে কয়েক যুবক সেখানে উপস্থিত পুলিশের সামনেই দরপত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। জমাদানে বাধা দেয়। আমি দায়িত্বরত পুলিশকে বারবার বললে তারা কিছুটা এগিয়ে আসলে আমি দরপত্র জমা দেই। তবে সাধারণ ঠিকাদাররা বাধার কারণে, লাঞ্ছিত হবার ভয়ে দরপত্র জমা না দিয়েই ফিরে যান। দুইবার টেন্ডার আহবান করেও ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে না পেরে ক্ষোভের সাথে জানান, হাসপাতালে সকল কাজ জেলা যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা নিয়ন্ত্রণ করছেন। জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ জানান, আমি এ বিষয়ে কোন কিছুই জানি না। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
