পিনাক-৬ এর মালিক সিদ্দিক গ্রেফতার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব। দুপুরে ঢাকায় র্যাব সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, লঞ্চডুবিতে নৌ-মন্ত্রীর তিন আত্মীয় মারা যাওয়ায় তিনি ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। তিনি আরো জানান, চার বছর আগে ১১ লাখ টাকায় ২৩ বছরের পুরনো এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মেসার্স নেছারাবাদ ওয়াটার ওয়েজ প্রতিষ্ঠানের মালিক মনিরুজ্জামান খানের কাছ থেকে তিনি কিনেন। এখনও মালিকানা পরিবর্তন করা হয়নি। লঞ্চের সুকানী (চালক) গোলাম নবী বিশ্বাস ও ইঞ্জিন অপারেটর (গ্রীজার) সিরাজুল ইসলাম ৮ লাখ টাকা দিয়ে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাছ থেকে সনদ নিয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএ’র এক কর্মকর্তা ২ লাখ টাকার বিনিময়ে এমএল পিনাক-৬ এর নামে সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান করেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে ২ লাখ টাকা দিয়ে পিনাক-৬ এর নামে যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান হিসাবে সার্ভে সনদ নেয়া হয়েছে। এছাড়া টাকার বিনিময়ে একই অধিদপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, র্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান এবং র্যাব-৭ ও র্যাব-১১ এর কর্মকর্তারা। কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেফতারকৃত লঞ্চ মালিকের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়েছে। লৌহজং থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। র্যাব-৭ ও র্যাব-১১ এর সহায়তায় গতকাল ভোরে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুড়িং থানার আগ্রাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবু বকর সিদ্দিক আরো জানান, কেনার আগে পিনাক-৬ লঞ্চটি ফিটনেসবিহীন অবস্থায় অনেকদিন পড়ে ছিল। অধিক লাভের আশায় তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষ দিয়ে লঞ্চটি চলাচলের জন্য সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। লঞ্চটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তার বড় ছেলে লিমন (২৭) এবং তার ভাতিজা রাতুল (২৩)। পিনাক-৬ লঞ্চ ছাড়াও একই রুটে ‘মাওয়া এক্সপ্রেস’ নামে তার আরেকটি লঞ্চ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া রোডে ইলিশ পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত সিদ্দিক।