সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা রাজনীতি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস জাট বলেন, এক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা বাংলাদেশের রাজনীতি। সাংঘর্ষিক রাজনীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি কোন পদক্ষেপ নেয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। এটি একটি দেশের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বড় বাধা। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক বিদ্যুত্ বাণিজ্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ (কানেকটিভিটি) আরও উন্নত করা প্রয়োজন। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) মধ্যাহ্নভোজ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জোহানেস জাট ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই অংশে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুত্ অঞ্চল (রিজিওনাল পাওয়ার পুল) গড়ে তোলারও পরামর্শ দিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের এ শীর্ষ কর্তা বলেছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশ ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ আনছে। এটা হয়তো ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। নেপাল ও ভুটানও বিদ্যুত্ উত্পাদনকারী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং বিদ্যুতের বাণিজ্য করতে পারে। বাংলাদেশ এরই মধ্যে এসব দেশ থেকে বিদ্যুত্ আনার ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছে। এসবের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার এ অংশে আঞ্চলিক বিদ্যুত্ অঞ্চল গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান তিনি। আর এটি গঠিত হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই জোহানেস জাট আঞ্চলিক বিদ্যুত্ অঞ্চলের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের সংখ্যা, শিল্পকারখানার তুলনায় এটি খুব বেশি না। আবার বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের জন্যও এই বিদ্যুত্ পর্যাপ্ত না। জোহানেস জাট বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভালো আইন ও বিধিমালা আছে। কিন্তু এসব প্রয়োগ ঠিকমতো হয় না। আর এ কারণেই রানা প্লাজার মতো ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (এসিসি) এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বেশ দুর্বল। এসব প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে। পদ্মা সেতু বিষয়ে জোহানেস জাট বলেন, ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে আসে বিশ্বব্যাংক। আমরা যখন ওই প্রকল্প থেকে সরে আসি তখন আমাদের বিদ্রূপও করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংক যখন কোন প্রকল্পে অর্থায়ন করে তখন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নিয়মনীতি অনুসরণ করেই তা করে। আমরা বলছি না যে বাংলাদেশ নিজেই পদ্মা সেতু করতে পারবে না। বাংলাদেশ পারবে। বাংলাদেশেরও নিজস্ব পরিবেশ ও কৌশল রয়েছে। সে অনুযায়ীই হয়তো তারা এই কাজ করবে। পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক আবার ফিরে আসবে কি না—জানতে চাইলে স্পষ্ট করে কোন উত্তর দেননি জোহানেস জাট। বিকেন্দ্রীকরণ বিষয়ে সভায় জোহানেস জাট ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে ভূমিকা রাখা প্রধান শহর হলো ঢাকা। কিন্তু ঢাকা এখন অনেকটাই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। জিডিপিতে ঢাকার অবদান এখনকার মতোই রাখতে হলে এই শহরের ওপর থেকে চাপ কমাতে হবে। এজন্যও বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন। প্রকল্পে অর্থায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক এক্ষেত্রে কিছুটা অবদান রাখতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কিংবা প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার অধিকার বিশ্বব্যাংকের নেই। বিশ্বব্যাংক কাজ করে অর্থনৈতিক বিষয়ে। যোগাযোগ ও বন্দর বিষয়ে জোহানেস জাট বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যকার সড়ক যোগাযোগ খুবই বেদনাদায়ক। দ্রুত এটার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ হওয়া উচিত। চট্টগ্রাম বন্দরের আরও উন্নয়নের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, একটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে এর বন্দরের উন্নয়ন ভালোভাবেই জড়িত। এজন্য চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নের দিকে সরকারকে মনোযোগী হতে হবে। ভোজসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা, অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট আফতাব উল ইসলাম, অ্যামচেমের নির্বাহী পরিচালক এ গফুর প্রমুখ।