রাজশাহীর বাগমারায় জমির বিনিময়ে জাল সনদধারী তিন ব্যক্তিকে চাকরি ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর নামে জমি নিবন্ধন করে দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) গতকাল সরেজমিনে ঘটনার তদন্ত করেছেন। সৃষ্ট জটিলতায় বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকায় গতকালও কোন ক্লাস হয়নি। তবে অফিস কক্ষ খোলা থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা হাজিরা দিয়েছেন।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) তোহিনুর আলম জাল সনদে চাকরি নেয়া শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আওয়ামী লীগ অফিসের জন্য নিবন্ধন করে দেয়া জমি সম্পর্কেও শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। উপজেলা সাবরেজিস্ট্রারকেও ডেকে পাঠানো হয়।
সাবরেজিস্ট্রার আজাহারুল হক জানান, জমিটি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গণিপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণের জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামে নিবন্ধন করে দেয়া হয়েছে। গ্রহীতা হিসাবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক স্বাক্ষর করেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তদন্তে জাল সনদে চাকরির বিনিময়ে জমি লিখে নেয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে জমি দাতা ও জাল সনদে চাকরি করা সুলতানা পারভীন চাকরির বিনিময়ে জমি নিবন্ধন করে দেয়ার বিষয়টি গতকাল তদন্ত কমিটির কাছে অস্বীকার করেছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক আকরাম হোসেন জানান, শিক্ষার্থীরা না আসায় তারা ক্লাস নিতে পারেননি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুত্ফর রহমানের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ৭ আগস্ট থেকে ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুত্ফর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইনছান আলী তার ছেলের বউ কনিষ্ঠ শিক্ষক রোকসানা খাতুনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন। এর পরেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন শুরু হয়।
এডিসি (শিক্ষা) তোহিনুর আলম সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার থেকে ক্লাস শুরুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জমি নিবন্ধন করে দেয়া প্রসঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রী নয়, সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনুকূলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নামে জমি নিবন্ধন করে দেয়া হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে জাল সনদে তিনজনের চাকরি করার সত্যতা পাওয়া গেছে।
মোহনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে জাল সনদে নাসির উদ্দিন, সুলতানা পারভীন, শিউলী রাণীকে চাকরি দেয়া হয়। এর মধ্যে অনুদান হিসাবে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইনছান আলী সুলতানা পারভীনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছাড়াও জমি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন।
