এরিক হোলিসের পাশে নিজের নামটা লিখিয়ে ফেললেন নাকি সাঈদ আজমল!
স্যার ডন ব্রাডম্যানের সঙ্গে তো কারোরই তুলনা চলে না। তবে আধুনিক ক্রিকেটের কিংবদন্তী মাহেলা জয়াবর্ধনে যেন পদে পদে স্যার ডনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছেন। সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানটির মতো জয়াবর্ধনেও শেষ টেস্ট খেলতে নেমেছেন ১৪ আগস্ট। স্যার ডনের শেষ টেস্টে দরকার ছিল ৪ রান; করেছিলেন শূন্য। জয়াবর্ধনে শূন্য রানের ফাড়া কাটালেও ওই ৪ রানে আউট হয়ে ফিরিয়েছেন। আর হোলিস যেমন ডনকে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার উত্সবে পানি ঢেলে দিয়েছিলেন, এবার শ্রীলঙ্কান উত্সবে পানি ঢেলে দিলেন পাকিস্তানী স্পিনার সাঈদ আজমল। অবশ্য ডনের চেয়ে এখনও একটু সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন; আরও একটা ইনিংস বাকি আছে তার এবং লঙ্কানদের।
সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে গতকাল শুরু হওয়া কলম্বো টেস্টটা আসলে এতোটাই জয়াবর্ধনেময় হয়ে গেছে যে, এর ক্রিকেটীয় তাত্পর্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তারপরও সেই ক্রিকেটের লড়াইটা দেখতে বসলে মনে হবে, প্রথম দিন শেষে পাকিস্তানই বরং একটু এগিয়ে। দারুণ শক্তি শুরু করেও শেষ পর্যন্ত ২৬১ রান তুলতে প্রথম দিনে ৮ উইকেট হারিয়েছে লঙ্কানরা। টেস্ট ও ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই ১১ হাজারের ওপরে রান, ৫১টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি; এমন ক্রিকেটারের বিদায়ে সারা ক্রিকেট বিশ্বই যে শোকগ্রস্ত হবে, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। লঙ্কানরা রীতিমতো বিদায়টাকে বাঁধিয়ে রাখার মতো প্রস্তুতি নিয়েছে। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের তরফেও কোনো কমতি রাখা হয়নি। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এসএসসির পথটা সাজিয়ে ফেলা হয়েছে জয়াবর্ধনেকে নিয়ে বিশাল বিশাল সব বিলবোর্ড দিয়ে। কোনোটায় লেখা—স্যালুট টু মাহেলা, কোনোটায় লেখা—তুমি আমাদের গর্বিত করেছ। আবার একটা বোর্ডে বড় বড় করে লেখা—ক্লাস কখনো অবসরে যায় না!
এমন উত্সবের দিনটা যেমন দরকার ছিল, তেমন করেই শুরু করেছিলেন উপল থারাঙ্গা ও কুশল সিলভা। উইকেটবিহীন প্রথম সেশন কাটিয়ে দিনটাকে শ্রীলঙ্কার বলেই প্রমাণ করতে চলেছিলেন। লাঞ্চের পরপর দলীয় ৭৯ রানে ৪১ রান করা কুশল আউট হয়ে গেলে বন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ব্যাট তুলে নেন কুমার সাঙ্গাকারা। থারাঙ্গার সঙ্গে তিনি ৬৫ রান। আর সাঙ্গাকারার বদলেই উইকেটে আসেন বিদায়ী কিংবদন্তী জয়াবর্ধনে। পাকিস্তানী ফিল্ডারদের তৈরি করা মানব সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে গার্ড অব অনার নিয়ে ব্যাটিং করতে আসেন। শুরু থেকে অবশ্য কখনোই সাবলীল ছিলেন না। আগেই আজমলের একটা দুসরাতে আউট হয়ে যেতে পারতেন, স্লিপে বল ক্যারি না করায় বেঁচে যান। কিন্তু ১৬ বল সামলে শেষ পর্যন্ত আজমলের ভয়ঙ্কর এক টার্নে আর শেষ রক্ষা হয়নি; এলবিডব্লু হয়ে ফিরে আসেন।
জয়াবর্ধনে আউট হওয়াটা যেন প্রতীকী একটা ব্যাপার ছিল। এরপরই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়তে থাকে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং। সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে আউট হয়ে যান থিরিমান্নে। এরপর ম্যাথুস একটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন বটে। খুব একটা কাজ তাতে হয়নি। শেষ বেলায় জুনায়েদ খান ত্রাস হয়ে উঠে শ্রীলঙ্কাকে বিপদেই ফেলে দেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৮৫.১ ওভারে ২৬১/৮ (থারাঙ্গা ৯২, কুশল ৪১, সাঙ্গাকারা ২২, জয়াবর্ধনে ৪, ম্যাথুস ৩৯, থিরিমান্নে ২০, ডিকওয়ালা ২৪, দিলরুয়ান ০, ধাম্মিকা ব্যাটিং ৪; জুনায়েদ ৪/৬৯, ওয়াহাব ৩/৬৬, আজমল ১/৬৭)
