এবছরই এইচএসসিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়েছে। পাসের হার ৭৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। ১১ লাখ ৩০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন। বরাবরের মতো প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ পাস করা ছাত্রের মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতটুকু? এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষাবিদ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, বাংলাদেশের মত বিশ্বের আর কোথাও এতো সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে না। এইচএসসি পাস করে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজে নেমে পড়ে। বাংলাদেশে এইচএসসির পর অনেক শিক্ষার্থী বেকার হয়ে পড়ে যার কারণে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা লাভে আগ্রহ দেখায়।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়-গুলোতে আসন ৩৯ হাজার ৩৮০, সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আসন আছে ২ হাজার ২০০। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া অনেকেই দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জায়গা করে নিতে পারবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন সংখ্যা ৬০ হাজার। এ অবস্থাতে পাস করা এতো শিক্ষার্থী কোথায় উচ্চশিক্ষা নেবে?
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়: ইউজিসির ২০১১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৩৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তিতে মোট আসন রয়েছে ৩৯ হাজার ৩৮০টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসনসংখ্যা ৬ হাজার ২৭০টি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৭৮০, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১ হাজার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৬১৯, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৪২০, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৪৬৫, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ৪৮২, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯১৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫০টি। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪২, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬২, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৫০, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০০, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৭০, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬০, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫২৭টি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪১৩, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৭৫৫, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪০, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৯৯, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৫, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩১২, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮০, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে ৫৫, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ২০০, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬০, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬০, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭০ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০টি আসন রয়েছে।
কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি : পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি কঠিন হবে। উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমানে দেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মেডিক্যাল কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন রয়েছে ৫ লাখের কিছু বেশি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে আসন আছে ৪১ হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে ১০ শিক্ষা বোর্ডে ৮ লাখ ৮৫ হাজার পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭০ হাজার ৬০২ জন।
এরা সবাই এখন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিতে কাঙ্ক্ষিত ও পছন্দের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য অধীর অপেক্ষায়। তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে লাখো মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীকে। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, মেডিক্যালে ভর্তিতে প্রতিযোগিতা তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। তবে আসন সংকটের কারণে স্বপ্নভঙ্গ হবে লাখো শিক্ষার্থীর।
উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী, অভিভাবক:শাহাদাত আলমের মেয়ে উম্মে হাবিবা ব্যবসায় শাখায় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় রাজউক কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। মেয়েকে কোথায় ভর্তি করাবেন জানতে চাইলে শাহাদাত আলম উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়ে খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। এবার চিন্তা কোথায় তাকে ভর্তি করাবো। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাতে পারলে অনেকটা স্বস্তিতে থাকতাম’।
রাজউক কলেজ থেকে পাস করা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আতাউল্লাহ নাফিস বলেন, এ বছর যে পরিমাণ পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। নাফিসের অভিভাবক সৈয়দ ফরিদুজ্জামান বলেন, ‘ছেলে জিপিএ-৫ পাওয়াতে আমি খুবই আনন্দিত। তবে একই সাথে তাকে কোথায় ভর্তি করাবো তা নিয়ে চিন্তিত’।
