বর্ষণে রায়পুরায় মাটি ধসে রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:২৮
ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-কিশোরগঞ্জ রেলসড়কের নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমীরগঞ্জ রেলস্টেশনের কাছে বড়বাড়ী জামে মসজিদ নামক এলাকায় গত দুইদিনের প্রবলবর্ষণে রেললাইনের পাশ থেকে মাটি ধসে যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.২৫ থেকে ১.৩৫টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এসময় আমিরগঞ্জ স্টেশনে উপকূল এক্সপ্রেস, মেথিকান্দায় ‘সুবর্ণা এক্সপ্রেস’, জিনারদীতে ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ও খানাবাড়ীতে ‘কালনী এক্সপ্রেস’ আন্তঃনগর ট্রেনগুলো আটকা পড়ে। যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। আমীরগঞ্জ রেল স্টেশন মাস্টার গোলাম নবীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত দুইদিনে প্রবল বর্ষণে বড়বাড়ী জামে মসজিদ এলাকায় রেল লাইনের পাশ থেকে মাটি ধসে যায়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২-২৫টা থেকে এ রোডে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ করে দিয়ে স্থানটি মেরামতের কাজ শুরু করে। দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর ১-৩৫টা মেরামতের কাজ সম্পন্ন হলে রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। রামগড় (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, গত দুইদিন একটানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সে াতে রামগড় করেরহাট সড়কের কালাপানি নামক স্থানে প্রায় ১৫ ফুট রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি-ফেনী-ঢাকা মহাসড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বুধবার বিকালে পানির সে াতে রাস্তাটির ঐ অংশ ভেঙ্গে গেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মানিকছড়ির রাঙ্গাপানি এলাকায় রাস্তার উপর পাহাড় ধসে পড়ায় মানিকছড়ি-লক্ষ্মীছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল দুইদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণে মানিকছড়ি বাজার এলাকাসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রামগড় পৌর এলাকার ডেবারপাড় ও ফেনী নদীর তীরবর্তী এলাকার বাড়িঘর ডুবে গেছে। নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণে মানিকছড়ি উপজেলা সদরের রাজবাজার, উপজেলা পরিষদ এলাকা, তিনটহরী বাজার, মহামুনি, সনাথপাড়া, হাজীপাড়া, গচ্ছাবির, ডাইনছড়ি বাজার, যোগ্যাছলা, কালাপানিসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। মানিকছড়ি খাল ও ঢলু খাল প্লাবিত হয়ে তীরবর্তী এলাকা ডুবে গেছে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিচু এলাকা প্লাবিত দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা জানান, টানা দু’দিনের প্রবল বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর থেকে পাহাড়ি ঢলে মাইনী নদীর প্রবল সে াতে দীঘিনালা সদরের নারিকেল বাগান, মেরুং ইউনিয়নের লম্বাছড়া, হাজাছড়া, সোবায়ানপুর, বাদলছড়া, হেডম্যানছড়া, ছোটমেরুং, বাচা মেরুংসহ কয়েকটি এলাকার শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মেরুং ইউপি চেয়ারম্যান মুসলিম উদ্দীন জানান, মেরুং-এর ১৫০ একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে করে অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলুল জাহিদ পাভেল জানান, প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, শান্তিনগর, গঞ্জপাড়া, কমলছড়ি কালাডেবাসহ আশপাশের নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। প্লাবিত হয়েছে অন্তত একশ’ ঘরবাড়ি। বিনষ্ট হয়েছে অনেক ফসলি জমি। সকাল থেকে খাগড়াছড়ি চেঙ্গীনদীর বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে আরো কয়েকটি এলাকার ঘরবাড়িতে পানি উঠতে শুরু করেছে। খাগড়াছড়ি সদরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা প্রমুখ।