গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার নওখন্ডা গ্রামের ব্যবসায়ী শিপন কাজী হত্যার দায়ে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক এবিএম সাজেদুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- লেনিন শিকদার, মনির হোসেন, স্বপন মোল্লা ওরফে ডালিম, ওবায়দুল শেখ ওরফে ইবাদুল শেখ ও তপন কাজী ওরফে বাঘা। এদের মধ্যে মনির হোসেন ও স্বপন মোল্লা পলাতক রয়েছেন। রায়ে মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। এরা হলেন- মোকাররম শিকদার, রেজাউল কাজি, শেখ রনি আহমেদ, অহেদুল মিনা, ফরিদ মিনা ও আহসান কাজী। দণ্ড ও খালাসপ্রাপ্ত সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।
রায়ের আদেশে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে খুন ও লাশ গুমের অভিযোগ প্রমাণ করেত সক্ষম হয়েছে। ফলে তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হলো। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেয়া হলো।
নথিসূত্রে জানা যায়, এ মামলার বিচার চলাকালে ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ২০১০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০০৭ সালের ১৭ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, নিহত শিপন কাজী ওরফে জুন্নুন নওখন্ডা গ্রামে তার মামা শাহআলমের বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতো। পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন সমিতি করে ব্যবসা করতো। আসামি মনির, ওবায়দুল ও ডালিমকে ব্যবসা সংক্রান্তে কিছু টাকা দিয়েছিল শিপন। পরবর্তীতে পল্লী উন্নয়ন সমিতির উন্নতি ও লাভ দেখে আসামিরা শিপনের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয় ও পাওনা পরিশোধ না করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করে। আসামি লেনিন শিকদারের বোন মনিরার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লেলিন শিকদার তার বোনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু শিপন তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে আসামি লেলিন, মোকাররমসহ অন্যরা শিপনের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। পরে শিপন কাজীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়।
ঘটনার দিন ২০০৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে শিপনকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার নওখন্ডা গ্রামের মামার বাড়ির নৌকা ঘাট থেকে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে এবং লাশের হাত পা বেঁধে পানিতে ডুবিয়ে গুম করার চেষ্টা করে। পরের দিন সকালে নওখন্ডা জলির পাড় কাঁচা রাস্তার গোহালা উজানী খালের বাঁশের সাঁকোর কাছে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় মামলা করেন। রাষ্ট্র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি মোঃ মাহবুবুর রহমান।
