ভারতে পাচার হওয়ার ৩ বছর পর দেশে ফিরলো ৩৪ নারী ও শিশু

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩১
ভালো চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথে ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া স্কুল পড়ুয়া ১ শিশুসহ ৩৪ বাংলাদেশি নারী দীর্ঘ ৩ বছর পর বুধবার রাতে বেনাপোল চেকপোষ্টে দিয়ে ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ সময় বিজিবি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বেনাপোল চেকপোষ্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ভারতের মুম্বাইয়ে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করা হয় এসব বাংলাদেশি শিশু ও নারীকে। পরে ভারতীয় পুলিশের অভিযানে আটক হয় তারা। সেখান থেকে তাদেরকে পাঠানো হয় মুম্বাই শহরের ‘নবজীবন’, ‘কাচকূর্বা’ ও ‘দিওয়ানা’ শেল্টার হোমে। সেখানেই কেটে যায় তাদের দীর্ঘ ৩ বছর। পরে ভারতের একটি মানবাধিকার সংস্থা এদের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট্স, যশোর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন, খুলনায় পাঠায়। দু’দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি চালাচালির পর তাদেরকে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। বুধবার রাতে তাদেরকে পেট্রাপোল চেকপোস্টে আনা হয়। পরে তাদের হস্তান্তর করা হয় বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে। সেখান থেকে বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইট্স, যশোর ও ওয়ার্ল্ড ভিশন, খুলনা তাদেরকে গ্রহণ করে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখবে। পরে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করবে। ফেরত আসা নারীরা হলোঃ বেনাপোলের বৃষ্টি খাতুন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জোত্স্না খাতুন, ঢাকার রূপনগরের মনি খাতুন, বান্দরবানের মরিয়ম বিবি, শারমিন আক্তার, দিনাজপুরের মুক্তা মনি, রোমেছা, রাবেয়া, যশোরের বিলকিস বেগম, নাজমা বেগম, রোকেয়া বেগম, রানি খাতুন, রিমা খাতুন, চায়না খাতুন, খাদিজা বেগম-১, খাদিজা বেগম-২, আদুরী বেগম, আকলিমা খাতুন, শিউলী খাতুন, আফিরোন খাতুন, খুলনার হেলেনা, ময়মনসিংহের মরিয়ম খাতুন, সীমা খাতুন, লোহাগড়া, নড়াইলের লিপি খাতুন, পিয়ারী বেগম, কেয়া খাতুন, সাতক্ষীরার শাহানারা বেগম, পাবনার রেজমা খাতুন, শরীয়তপুরের রুমা খাতুন, সীমা খাতুন ও নোয়াখালীর রাবেয়া খাতুন, পাবনার রেশমা খাতুন ও শিশু আনিতা। তারা জানায়, দালালরা ভারতের মুম্বাইয়ে চাকরি দেয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নিয়ে ভারতে পাচার করে। দীর্ঘ ৩ বছরের দুর্ভোগশেষে তারা দেশে ফিরেছে। দেশে ফিরতে পেরে তাদের ভাল লাগছে বলে জানান তারা।