ফিলিস্তিনের গাজায় ফের ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইসরাইল ও হামাস। যুদ্ধ বিরতির এই সিদ্ধান্ত সর্বশেষ ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে এসেছে। এদিকে এই চুক্তির পর পরেই হামাসের করা রকেট হামলার জবাবে ইসরাইল গাজাতে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামাস জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অর্থ এই নয় যে এটা একটা শান্তি চুক্তি। দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তি করতে হলে অবশ্যই ইসরাইলকে জনগনের দাবি মেনে নিতে হবে। খবর বিবিসি ও আল জাজিরার।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলছে, গাজা থেকে তাদের উদ্দেশ্য করে কম পক্ষে পাঁচটি রকেট হামলা চালানো হয়েছে। তারা বলছে জবাবে তাদের ভাষায় শুধুমাত্র ‘সন্ত্রাসী প্রবণ’ এলাকাতেই তারা বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। হামাস অবশ্য এই হামলার কথা অস্বীকার করেছে। এদিকে এই হামলার কিছুক্ষণ আগেই দুই পক্ষ মিসরের কায়রোতে পাঁচদিনের এক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয়। ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের প্রধান আজম আল-আহমাদ বলেন, আমরা আলোচনার জন্য আরও সময় দিয়েছি। তিনি আরও বলেন এই দলটি এখন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাথে আলোচনায় করবে। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ইসরাইলের গোয়েন্দা তত্পরতা বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, ইসরাইল চাই যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকুক। আমরা আরেক দফায় সহিংসতা চাই না। আমরা মিসর ও জাতিসংঘের দেওয়া এর আগের সাতটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলাম কিন্তু হামাস সেগুলো মানেনি। অন্তত এবার দুপক্ষই মেনেছে। দেখা যাক সামনে কি হয়। তবে এই হামলা দুই পক্ষই যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে কিনা সেটা পরিষ্কার নয়। ফিলিস্তিনের এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে এই যুদ্ধবিরতি পরবর্তী আলোচনার পথ তৈরি করবে। ইসরাইল এবং হামাস তাদের দাবিগুলো কায়রোতে মিসরের কর্তৃপক্ষের মধ্যস্থতায় একে অপরকে জানাচ্ছে। ফিলিস্তিন প্রতিনিধি দলের সদস্য খলিল আল-হায়া বলেছেন, আমরা চাই জনগনের দাবি মেনে নেওয়া হোক। আমরা আগামী শনিবার কায়রোতে আসবো এবং রবিবার আবার আলোচনা করবো। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ আমরা ইচ্ছা করে করছি না। এটা প্রয়োজনের যুদ্ধ। আমাদের রক্ষার যুদ্ধ।
