বুদ্ধদেব বসু

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২৪
বুদ্ধদেব বসু ছিলেন বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, থাসাহিত্যিক, অনুবাদক এবং সম্পাদক। বিংশ শতাব্দীর বিশ ও ত্রিশের দশকের নতুন কাব্যরীতির সূচনাকারী কবি হিসেবে তিনি সমাদৃত। বুদ্ধদেব বসুর জন্ম হয় কুমিল্লায়। তার পিতা ভূদেব বসু পেশায় উকিল ছিলেন। তার মাতার নাম বিনয়কুমারী। বুদ্ধদেব বসুর পিতামহ চিন্তাহরণ সিংহ ছিলেন পুলিশ অফিসার। তার পৈতৃক আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগর গ্রামে। জন্মের অল্প পরেই তার মাতার মৃত্যু ঘটে। এতে শোকাভিভূত হয়ে তার পিতা সন্নাসব্রত গ্রহণ করে গৃহত্যাগ করেন। বুদ্ধদেবের শৈশব কেটেছে কুমিল্লা, নোয়াখালী আর ঢাকায়। ঢাকা বিশ্বদ্যািলয়ে শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঢাকা ছেড়ে কলকাতায় অভিভাসন গ্রহণ করেন। বুদ্ধদেব বসু ১৯২৩ সালে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। ১৯২৫ সালে ওই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম বিভাগে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯২৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে ঢাকা কলেজ) থেকে প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আইএ পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ইংরেজিতে ১৯৩০ সালে প্রথম শ্রেণীতে বিএ অনার্স এবং ১৯৩১ সালে প্রথম শ্রেণীতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ছিলেন মেধাবী এক ছাত্র। বিএ অনার্স পরীক্ষায় তিনি যে নম্বর লাভ করেন তা একটি রেকর্ড। তার জীবন কর্মময়। জীবনের শেষাবধি তিনি নানা কাজে-কর্মে ব্যাপৃত রেখেছেন। শক্ষকতাই ছিল জীবিকা অর্জনে তার মূল পেশা। সাহিত্যের প্রায় সকল শাখায় তিনি কাজ করেছেন। তিনি দৃশ্যত সেই ধরনের বৈশ্বকোষিক সাহিত্যিকদের মধ্যে শেষতম, যাদের দেখা অধুনাপূর্ব যুগে সচরাচর মিলত, যারা সমুদ্রসন্ধানী ছিলেন, যারা একই সঙ্গে সৃজনকলার নানা ভঙ্গিমাকে আরাধ্য করতে পেরেছিলেন।