এসএসসি ও জেএসসি গণিত সৃজনশীল বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উদাহরণ

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২০:০২
প্রশ্ন ঃ a ও b দুইটি বীজগাণিতীয় প্রতীক হলে- i) 4ab = (a + b)2 – (a – b)2 ii) (a + b)2 = a2 – 2ab + b2 iii) (a + b)(a – b) = a2 – b2 উপরের তথ্যের ভিত্তিতে নিচের কোনটি সঠিক? ক) i খ) i ও ii গ) i ও iii ঘ) i, ii ও iii এখানে ‘ii’ তথ্যটি ভুল হওয়ায় এটি বিকল্প উত্তরে বারবার দেয়া যাবে না। দিলে শিক্ষার্থী বিচার বিশ্লেষণ/চিন্তা না করেই ভুল উত্তর বাদ দিয়ে সহজেই Answer করতে পারবে। আরেকটি উদাহরণ লক্ষ করি- প্রশ্ন ঃ নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করঃ i) 2x – y = 0 ও x -2y = 0 সমীকরণদ্বয় পরস্পর নির্ভরশীল। ii) x – 2y + 3 = 0 সমীকরণের লেখচিত্র (-3, 0) বিন্দুগামী। iii) 3x + 4y = 1 সমীকরণের লেখচিত্র একটি সরল রেখা। উপরের তথ্যের ভিত্তিতে নিচের কোনটি সঠিক? ক) i খ) ii গ) ii ও iii ঘ) i, ii ও iii খেয়াল রাখতে হবে তিনটি তথ্য/বিবৃতি/ধারণা যেনো একই ধরনের হয়। ভিন্ন হবে না। যেমনঃ প্রশ্ন ঃ নিচের তথ্যগুলো লক্ষ করঃ i) 2x – y = 0 ও x -2y = 0 সমীকরণদ্বয় পরস্পর নির্ভরশীল। ii) 4ab = (a + b)2 – (a – b)2 iii) চতুর্ভুজের চার কোণের সমষ্টি চার সমকোণ। উপরের তথ্যের ভিত্তিতে নিচের কোনটি সঠিক? ক) i খ) ii গ ii ও iii ঘ) i, ii ও iii এ ধরনের প্রশ্ন কোন বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনি প্রশ্ন হবে না। এই প্রশ্নটি একটি ভুল প্রশ্ন। বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনী প্রশ্নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যম ও কঠিন স্তরের দক্ষতা যাচাই করা হয়। তাই প্রশ্নপত্রে এ ধরনের প্রশ্ন কম থাকাই ভাল। তবে কোনভাবেই তা ২০% এর বেশি হবে না। ৩. অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (Situation set MCQ) এ ধরনের প্রশ্ন একটি উদ্দীপক/ দৃশ্যকল্প/ সূচনা বক্তব্য (Stem/ Scenario/ Situation) দিয়ে শুরু হয়। উদ্দীপকের ওপর ভিত্তি করে কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। প্রশ্নগুলো পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে আবার নাও হতে পারে। উদ্দীপকগুলো তৈরি করা হতে পারে অথবা, বিভিন্ন উত্স থেকে নেওয়া হতে পারে, যেমন- পত্রপত্রিকা, রেফারেন্স বই, প্রবন্ধ, ছোট গল্প ও বিজ্ঞাপনচিত্র, চলচ্চিত্র ইত্যাদি। অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্নের ক্ষেত্রে উদ্দীপক শিক্ষার্থীর সামনে একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি করে যে পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী তার পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে এবং সেই জ্ঞান ব্যবহার করে নতুন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, নতুন পরিস্থিতি যুক্তি প্রদর্শন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মূল্যায়ন করতে পারে। যেমনঃ প্রশ্নঃ নিচের চিত্রের আলোকে ১, ২ ও ৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাওঃ ১। ত্রিভুজটির ক্ষেত্রফল কত? ক. 13 বর্গ সে. মি. খ. 17 বর্গ সে. মি. গ. 30 বর্গ সে. মি. ঘ. 60 বর্গ সে. মি. ২। অতিভূজের সমান বাহু বিশিষ্ট বর্গের ক্ষেত্রফল কত? ক. 13 বর্গ সে. মি. খ. 17 বর্গ সে. মি. গ. 144 বর্গ সে. মি. ঘ. 169 বর্গ সে. মি. ৩। ত্রিভুজটির পরিসীমা কত? ক. 13 সে. মি. খ. 30 সে. মি. গ. 169 সে. মি. ঘ. 186 সে. মি. প্রশ্নে এমন কোনো ইঙ্গিত থাকবে না যাতে পরীক্ষার্থী উত্তরগুচ্ছ থেকে সঠিক উত্তর বাছাই করতে পারে এবং ভুল উত্তর বাদ দিতে পারে। যেমন- ৩ নং প্রশ্নের বিকল্প উত্তরের এককে অর্থাত্, সে. মি এর স্থলে বর্গ সে. মি বা, ঘন সে. মি দেওয়া যাবে না । কারণ তখন পরীক্ষার্থী বর্গ বা ঘন দেখেই ২টি উত্তর বিচার বিশ্নেষণ/ চিন্তা না করেই বাদ দিয়ে দিবে। মধ্যম ও কঠিন স্তরের প্রশ্ন তৈরির জন্যে অভিন্ন তথ্যের ব্যবহার করার কারনে অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সহজ না করাই ভাল। যেহেতু বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্রে মধ্যম ও কঠিন স্তরের প্রশ্ন প্রণয়নে উদ্দীপকে নতুন পরিস্থিতি আনা খুবই তাত্পর্য, তাই মানসম্মত প্রশ্ন ও কার্যকরী উদ্দীপক তৈরির জন্যে কৌশল অনুসরণ করা উচিত্। আগামীকাল থাকবে প্রশ্নে উদ্দীপক