দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা কমছেই না। এখন ভূমিদস্যুরা সংখ্যালঘুদের ভূমি দখল, উচ্ছেদের জন্য আক্রমণ, শ্লীলতাহানি করে থাকে। এছাড়া এক ধর্মের প্রতি অন্য ধর্মের মানুষের ভুল ধারণা, হিংসাত্মক মনোভাব এবং ধর্মের ভুল ব্যাখ্যার ফলে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়ে থাকেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে দাঙ্গার সৃষ্টি হয়। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এছাড়াও রয়েছেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্য কিছু ধর্মের মানুষ। আবহমান বাংলায় এইসব ধর্মের মানুষের মিলেমিশে থাকার ইতিহাস গৌরবের। অন্যান্য মুসলিম দেশের চেয়ে বাংলাদেশের মুসলমানরা আধুনিক। অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি তারা উদার মনোভাব পোষণ করে। তাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে টেনে থাকে অনেক দেশের মানুষ।
তারপরও প্রতি বছর শত শত প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাট, ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। বেদখল হয়ে যায় সংখ্যালঘুদের জমি-জমা। তাই দিন দিন সংখ্যালঘুদের সংখ্যা কমছে। যা মোটেই কাম্য নয়।
সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু সংগঠন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। খ্রিস্টান ক্যাথলিকদের বিশপীয় ঐক্য ও সংলাপ কমিশন তাদের মধ্যে অন্যতম। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ মাঝে মধ্যে আন্তঃধর্মীয় সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের নিয়ে।
কেন মানুষ অন্য ধর্মের প্রতি হিংসাত্মক আচরণ করে? গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু নিজের ধর্মকে শ্রেষ্ঠ ভাবা, অপর ধর্ম বিষয়ে না জানা ও সন্দেহের কারণে দুইটি ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। আর এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সংখ্যালঘুরা।
পৃথিবীর সব ধর্মই মানব কল্যাণের কথা বলে। কিন্তু তারপরও কেন আমরা ধর্ম নিয়ে একে অপরকে অবিশ্বাস করি? ধর্ম মানব জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রত্যেক মানুষ জন্মসূত্রে পাওয়া ধর্মকে অতি আপন করে। তাই অন্যের ধর্মকে কখনোই ছোট করা উচিত নয়। তাহলেই আসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। যা একটি গুরুতর অপরাধ।
বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাসীদের নিয়ে একসঙ্গে ধর্মীয় আলোচনার সুযোগ আরো বাড়লে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভালো হবে। এটা শুধু গুটি কয়েক সংগঠন বা কমিশনের কাজ না। এটা করতে হবে রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। যাঁরা সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হলে বেশি সমবেদনা জানিয়ে থাকেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারে বা অনুষ্ঠান বানাতে পারে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু নিজ ধর্মের বই না পড়িয়ে অন্য ধর্মের বিষয়ে জ্ঞান লাভের সুযোগ শিক্ষার্থীদের দিতে হবে। শ্রদ্ধা করতে হবে অন্য ধর্মের মানুষকে।
ঢাকা
