ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ভারতের ৬৮তম স্বাধীনতার দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোদী এই আহবান জানান। তিনি সামপ্রদায়িকতার অবসান ও ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গিকার করেছেন। পাশাপাশি তিনি সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও ভ্রুণহত্যার সমালোচনা করেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসে বক্তৃতা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এবারের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ও অতীতের দিবসগুলোর অনুষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য ছিল। এবার মোদী কোনো লিখিত বক্তব্য দেননি। এছাড়া আগে দিল্লির লাল কেল্লার এই অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারতেন না। কিন্তু এবার তারা প্রবেশ করেছেন। আগে প্রধানমন্ত্রীকে বুলেটপ্রুফ ঘেরাটোপের মধ্যে বক্তব্য দিতে হতো। এবার মোদী সেটা করেননি। মোদীর পরনে ছিল হাফ-হাতা ক্রিম রঙ্গের পাঞ্জাবি ও পায়জামা। সেই সঙ্গে পরেছিলেন গেরুয়া রঙের একটা প্রিন্টেড পাগড়ি, যার নিচের দিকটায় ছিল সবুজ প্রিন্ট। সচেতনভাবেই মোদীর পোশাকে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকার ছাপ। মোদী জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি এখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসিনি। এসেছি আপনাদের সেবক হিসেবে।
সামপ্রতিক বছরগুলোতে এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় ভারতীয় কোনো প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ আনেননি। তার বক্তৃতায় কেবল নেপাল এবং ভুটান প্রসঙ্গে ছিল। এই দুটি দেশ তিনি সফর করেছেন। এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে করা বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মূলত দেশ গঠনে সবার মতৈক্য আশা করেছেন। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী এক ঘন্টার বেশি সময় বক্তৃতা করলেন। বক্তৃতায় মোদী ধর্ষণ, নারীদের নিরাপত্তা, বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নয়ন প্রভৃতি প্রসঙ্গ আনেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। উত্পাদনন শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এ দেশে আসুন। উত্পাদন করুন। যেখানে খুশি বিক্রি করুন। আমাদের দক্ষ ও প্রতিভাবান শ্রমিক রয়েছে।
সরকারে ন্যুনতম লোকবল নিয়ে শাসন পরিচালনায় সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের নীতিতে বিশ্বাসী মোদী বলেন, তিনি মনে করেন তাঁর সরকারের সব কর্মচারীই যথেষ্ট দক্ষ এবং তারা জনগণের সেবায় নিজেদের এই দক্ষতা কাজে লাগাতে অঙ্গীকারবদ্ধ। গ্রামীণ উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশের উন্নতিতে তিনি সাংসদদের নতুন দায়িত্ব দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। সেই দায়িত্ব হলো প্রত্যেক সংসদ সদস্যকে নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় একটি করে আদর্শ গ্রাম গড়তে হবে। মোদী ভারতীয় সব নাগরিকের ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যাপারে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানান।
