পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু মিয়াকে গ্রেফতারের পর এবার তার ছেলে ওমর ফারুক লিমনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটায় র্যাব-১ এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে। লিমন ডুবে যাওয়া লঞ্চটির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। লঞ্চডুবির ৪ দিন পর ঢাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে তার বিয়ে হয়। পিনাক-৬ লঞ্চডুবি মামলার তিনি ৩ নম্বর আসামি। এ মামলায় অপর আসামি সুকানি গোলাম নবী বিশ্বাস, কাওরাকান্দি ঘাট পরিচালনাকারী আব্দুল হাই সিকদারসহ ৪ জন পলাতক রয়েছে। এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু মিয়াকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, লিমন গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, লঞ্চটি ফিটনেসবিহীন অবস্থায় অনেক দিন ছিল। ঈদে অধিক লাভের আশায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তার বাবা বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে লঞ্চ চলাচলের জন্য বিভিন্ন সেকশন থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মির্জা সাইফুর রহমানকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পিনাক-৬ এর নামে যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান সার্ভের সনদ নেয়া হয়েছে। এমনকি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মুঈন উদ্দিন জুলফিকারের কাছ থেকে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে। লঞ্চটি পরিচালনাসহ তার যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লিমন আরো জানান, ঘটনার দিন তিনি মাওয়া ঘাটে ব্যক্তিগত বাজার করার সময় মোবাইল ফোনে লঞ্চ ডুবির কথা শুনতে পান। স্থানীয় লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং তার আত্মীয়-স্বজন তাকে ওই এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী লিমন প্রথমে নারায়ণগঞ্জে তার হবু শ্বশুরবাড়ি এবং ৮ আগস্ট বিয়ে হওয়ার পর সেখান থেকে তার ভায়রার বাসা রাজধানীর খিলক্ষেতে আত্মগোপন করেন। উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট মাওয়া লঞ্চঘাটের অদূরে পদ্মা নদীতে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে এমএল পিনাক-৬ ডুবে যাওয়ার পর এখনো ৬১ জন নিখোঁজ রয়েছে।
