ফুটিয়েও পান করা যাচ্ছে না ওয়াসার পানি

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪০
বিশুদ্ধ পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে রাজধানীতে। আবার ওয়াসা যেটুকু পানি সরবরাহ করছে তাতেও ময়লা ও দুর্গন্ধ, ব্যবহারের অযোগ্য। রীতিমতো ফুটিয়েও পানি থেকে গন্ধ দূর করা যাচ্ছে না। দূষিত পানিতে শিশুদের শারীরিক অবস্থা বিপন্ন হয়ে পড়ছে। নানা রোগ-ব্যাধি বিশেষত ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সঙ্গে পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানি সংকটের জন্য বিদ্যুত্ সংকটকে দায়ী করলেও দূষিত পানি সরবরাহ নিয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছে না। পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াসা শতকরা ১৩ শতাংশ পানি নদী থেকে সংগ্রহ করে থাকে। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা থেকে যে প্রক্রিয়ায় পানি সংগ্রহ করা হয় তাতে পানি বিশুদ্ধ হয় না। এছাড়া পানি বিশুদ্ধ করতে অনেক সময় ওয়াসা অতিমাত্রায় কেমিক্যাল ব্যবহার করে। যার কারণে পানি দুর্গন্ধ হয়। বিশেষ করে সায়দাবাদ ও চাঁদনীঘাট শোধনাগার থেকে সরবরাহকৃত পানিতে এই দুর্গন্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এদিকে পানি নিয়ে ক্রমেই বিশেষ করে পুরান ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ-দুর্গতি বাড়ছে। পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার, তাঁতীবাজার, ইসলামপুর, বংশাল, নয়াবাজার, আরমানিটোলা, কুলুটোলা, মদনমোহন, ঘোষ লেন, নারিন্দা, ধোলাইখাল, চকবাজার, পানিটোলা, নয়াটোলা, মধুবাগ, শান্তিনগর, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মগবাজার, কলতাবাজার, পাটুয়াটুলী লেন, বাংলাবাজার লেন, সুরিটোলা, বনগ্রাম, ওয়ারী, শশী মোহন বসাক লেন ও মৈশুন্ডিসহ আশ-পাশের এলাকায় গত ৩ মাস যাবত্ পানি সংকটের পাশাপাশি পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফেনাযুক্ত কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সাংসারিক কোনো কাজে আসছে না। বরং ঘরময় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বাড়াচ্ছে রোগ-বালাই। পুরান ঢাকার শাঁখারী বাজার এলাকার বাসিন্দা সনদনন্দি জানান, ওয়াসার পানির সাথে ময়লা, কেঁচো এমনকি পয়োঃবর্জ্যও আসছে। দূষিত পানি পান করে তার পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার দুই ছেলে শৈলেন ও অসীমকে গত মঙ্গলবার মহাখালী উদারাময় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে শাঁখারী বাজার পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার ১টি গভীর নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করছেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়ও এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। মোহাম্মদীয়া হাউজিং লিমিটেডের ৪ নং রোডের কয়েক হাজার মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাব ভোগ করছে। গত ৮ মাস ধরে এখানকার ওয়াসার সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। ফুটিয়েও পানি বিশুদ্ধ করা যাচ্ছে না। ফলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এছাড়া নানা রোগ-বালাইও ছড়িয়ে পড়ছে এলাকায়। বাসিন্দাদের অভিমত, অবিলম্বে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। নইলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে। স্যার সলিমুল্ল্যাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিত্সক মো. আবু নোমান ইত্তেফাককে বলেন, দুর্গন্ধের কারণে ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পান করা যাচ্ছে না। পানি ফুটিয়ে পান করেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। অনেকে পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুরা এর খেসারত দিচ্ছে সবচেয়ে বেশি। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা জানায়, শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্যা বেড়ে যায়। ঢাকা শহরে দিনে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন লিটার পানি দরকার। কিন্তু ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন থেকে ২ বিলিয়ন পানি সরবরাহ করা হয়। ঢাকার ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রতিবছর ৩ ফুট করে নিচে নামছে। এর ফলে ঢাকায় পানি স্বল্পতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম-এ-খান ইত্তেফাককে বলেন, সঠিকভাবে পানি বিশুদ্ধ করা হয়। ফুটানো পানি নিরাপদ। তবে প্রতিনিয়ত ওয়াসার লাইন থেকে পানি চুরি হচ্ছে। মেইন লাইন ছিদ্র করে এটা করার কারণে পানিতে ময়লা প্রবেশ করছে। ওয়াসার কিছু পুরাতন লাইন থাকার কারণেও এটা হতে পারে। এছাড়া বাসা-বাড়িতে যে ট্যাংকি রয়েছে তা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার কারণেও পানি দুর্গন্ধ হতে পারে।