কক্সবাজারের চকরিয়ায় জায়গা দখলের জন্য সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভূমিহীন ৭ পরিবারের বসতবাড়ি। এসময় তারা লুটপাটও করে।
গত শুক্রবার উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে পহরচাঁদার হাফালিয়া কাটা এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিনযাপন করছেন। গতকাল শনিবার চকরিয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আশ্রয় দাতা বৃদ্ধা এলমুন নাহার (৭০) ও আক্রান্ত পরিবারের আব্দুর রশিদের স্ত্রী কমরু বেগম (৩৪) ও নূরুল আলমের স্ত্রী কাজলী বেগম (৩৬) সহ অন্যরা।
তাঁরা বলেন, পাশের পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুল হাসেমের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জনের সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে তাদের বসতবাড়ি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক লুটপাট চালায়। তারা ৭-৮টি পরিবার ওই এলাকায় সরকারী জায়গায় প্রায় ৪০-৪৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তাদের বসতভিটার ওই জায়গা দখলের জন্য আবুল হাসেম এ তান্ডব চালায়
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত সাবেক ইউপি মেম্বার আবুল হাসেমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই বাবুল আজাদ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিপূর্বে জায়গা নিয়ে বিরোধ ঘটেছে। এ নিয়ে উভয়পক্ষে কয়েকটি মামলাও রয়েছে। তিনি বলেন, এলাকাটি পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ী দুর্গম এলাকা। তাই ঘটনাটি অবগত হলেও তাত্ক্ষণিক সেখানে যেতে পারেননি।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জিয়া বলেন, জায়গা জবরদখলের জন্য ভূমিহীন ৭ পরিবারের বসতবাড়ি ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনাটি অমানবিক। ব্যাপারটি ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করা হবে। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, হামলা ও বাড়ি ভাংচুরের এ ঘটনায় থানায় আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
