মোরেলগঞ্জ শহরে বাড়ছে জোয়ারের পানি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৫
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ পৌর সদর জোয়ারের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। পূর্ণিমার জোয়ারে এর তীব্রতা বেড়ে যায়। জোয়ারের সময় পানি নদীর কূল ছাপিয়ে রাস্তার উপর দিয়ে শহরের ভিতরে প্রবেশ করে। স্কুল, কলেজ,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রশাসনিক চত্বরে পানি ঢুকে পড়ায় কার্যক্রম বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। আবাদি জমি ও মত্স্য ঘের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। পৌর সদরের রাস্তাগুলো অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। পৌর সদরের কাপুড়িয়া পট্টি, কলেজ রোড, পুরাতন থানা এলাকা, ফেরিঘাট এলাকা, উপজেলা চত্বর, ছোলমবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। পৌর সদরের বারইখালী পুরাতন থানা এলাকা, পূর্ব সরালিয়া গ্রামের শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসন চত্বরে হাঁটুপানি ও কয়েকটি ভবনে পানি ঢুকে পড়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়ে। মোরেলগঞ্জ সদর উপজেলা গাবতলী গ্রাম ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধ থেকে জোয়ারের পানি ঢুকে পুরো গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পূর্ণিমার জোয়ারে পৌর সদরসহ ১০ ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে রোপা আমন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়ার ২ হাজার ৬৫ হেক্টর, বারইখালী ২ হাজার ৮৫, খাউলিয়ায় ২ হাজার ৯২৫, সদর ইউনিয়নের ৫৭৩ হেক্টর, পৌর সদরের ১৯২ হেক্টর, হোগলাবুনিয়ায় ২ হাজার ৩০, নিশানবাড়িয়ায় ২ হাজার ৯৭৫ হেক্টর ও পঞ্চকরণ ইউনিয়নের ১ হাজার ৭৫০ হেক্টর চাষাবাদকৃত আবাদি জমির ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এসব আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা স্থায়িত্ব হলে কৃষকরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। অপরদিকে নদীর তীরবর্তী বহরবুনিয়া ইউনিয়নের ২ হাজার ৫০টি, জিউধরায় ২ হাজার ৯০টি ও বারইখালী ইউনিয়নের ২৮০টি মত্স্য ঘের অধিক ঝুঁকিপূর্ণর মধ্যে রয়েছে বলে উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা ইয়াকিন আলী জানান।