মরিনহোর বাক্যবাণও শুরু

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:১২
চেলসি কোচ হোসে মরিনহো মৌসুমের শুরুতেই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও শিরোপা প্রত্যাশী ম্যানচেস্টার সিটি এবং আর্সেনালকে কথায় ঘায়েলের চেষ্টা চালালেন। মরিনহোর দল আগামীকাল সোমবার নবাগত বার্নলির বিরুদ্ধে খেলার মধ্য দিয়ে লিগ অভিযান শুরু করবে। লিগ শুরুর প্রাক্কালে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেই তিনি এ দল দুটির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। এই পর্তুগীজ কোচ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ফিরে এসে দ্বিতীয়বারের মতো চেলসির দায়িত্ব নিলেও প্রথম মৌসুমে কোনো শিরোপা জিতাতে পারেননি। এ প্রসঙ্গেই মরিনহোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তিনি কোনো চাপ অনুভব করছেন কি-না। জবাবে পর্তুগীজ কোচটি আর্সেনালের ফরাসি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারকে ইঙ্গিত করে বলেন,‘কেন চাপ অনুভব করবো? কিছু কোচ তো কোনো কিছু জিততে দশ বছর সময় পাচ্ছে।’ কোচ হিসেবে ম্যান সিটির ম্যানুয়েল পেলেগ্রিনি গত মৌসুমে সফল ছিলেন। দলকে প্রিমিয়ার লিগ এবং লিগ কাপসহ দু’টি শিরোপা এনে দেন তিনি। পেলেগ্রিনির এই সাফল্য সিটির সাবেক কোচ রবার্তো মানচিনির কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করেন মরিনহো। ওই ইতালিয়ান কোচের তত্ত্বাবধানে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং কমিউনিটি শিল্ড শিরোপা জিতেছিল সিটি। এ প্রেক্ষিতে মরিনহো বলেন, ‘আমার আগে অন্য কোনো কোচদের উন্নতি করে যাওয়া ক্লাবগুলো আমি পেতে চাই না। আমি অন্যের লাগানো গাছের ফল সংগ্রহের সময়ে এসে সংগ্রহ করতে আসি না। আমি কাজ করতে পছন্দ করি, আমি গড়তে পছন্দ করি। কোনো সহজ কাজ আমি পছন্দ করি না।’ মরিনহো গত মৌসুমে ওয়েঙ্গারকে ‘ব্যর্থতার এক বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এ ছাড়াও পেলিগ্রিনির সাথে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন কোনো ক্লাব সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ খরচ করেছিল এমন প্রশ্ন তুলে। পর্তুগীজ কোচটি নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান যে, তিনি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে নিজস্ব দল গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। সাবেক কোচ রাফায়েল বেনিতেজের রেখে দেয়া দলটিকে ব্যবহার করছেন না। মরিনহো ২০১৩ সালে চেলসিতে ফেরার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১ জন খেলোয়াড়কে এনেছেন যাদের জন্য ক্লাবটি ২০ কোটি পাউন্ড খরচ করেছে। চলতি মৌসুমের দলবদলে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ থেকে তিন কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে দিয়েগো কস্তাকে এবং এক কোটি ৬০ লাখ পাউন্ডে ফিলিপে লুইসকে চুক্তিবদ্ধ করেছে চেলসি। তিন কোটি পাউন্ডে বার্সেলোনার সেস ফেব্রেগাসকে চুক্তিবদ্ধ করেছে তারা, মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে থাকা ক্লাবটির সাবেক তারকা দিদিয়ের দ্রগবাকেও ফিরিয়ে এনেছেন তিনি। সবশেষে তিনি বলেন, ‘এটা আমার প্রকল্পের দ্বিতীয় বছর। এটা নিয়ে আমি খুবই খুশি। মৌসুম শেষে আপনারা, ভক্তরা এবং খেলোয়াড়রা আমার কাজের বিচার করবেন। এর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ হবে আমার বস, আমার মালিক এবং আমার বোর্ডের বিবেচনা।’ —মেইল অনলাইন