হাজার বছর পরেও মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু চির জাগরুক থাকবেন

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৮
জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ইতিহাসের পাতা থেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের পর ভয়ভীতি-নির্যাতন করে তাঁর নাম বলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হলেও তা চিরদিনের জন্য মানুষের মন থেকে দূরে রাখা সম্ভব হয়নি। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলমতের পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে সকলের ঐকমত্য থাকা উচিত। তিনি গতকাল শনিবার ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ৩৯তম শাহাদাত্ বার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে কিছু কিছু বিষয় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সার্বজনীনভাবে একমত থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা তত্কালীন ছাত্র সমাজ তাঁকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেছি। সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তিনি জাতির পিতা হয়েছেন। আজ দেশের ১৬ কোটি মানুষ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুকে মনে প্রাণে শ্রদ্ধাভক্তি করেন। এখন ছোট-বড় যেকোন পরিসরে তাঁকে মানুষ যেভাবেই স্মরণ করুক না কেন পরে এ ব্যাপ্তি সুবিশাল পরিমণ্ডল ধারণ করবে। হাজার বছর পরেও মানুষের মনে বঙ্গবন্ধু চির জাগরুক থাকবেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আজ ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা যদি সক্ষম হই তাহলে তাঁর বিদেহী আত্মা তৃপ্তি পাবে। সকল ক্ষেত্রে এই ঐক্য বজায় রাখা গেলে মানুষ ও দেশের উন্নয়ন সাধন সহজ হবে। আমরা এখন স্বাধীন দেশের মানুষ। এখন কোন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বা প্রভাবশালী শক্তি আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে না। এখন আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন দেশের নিয়ন্ত্রণে স্বাধীন নাগরিক। তিনি বলেন, এখন আমরা স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে জীবন মানের উন্নয়ন, কল-কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান তথা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণে সচেষ্ট। দীর্ঘ ৩০ বছরে এ অঞ্চল তথা দেশের মানুষের প্রত্যাশা-পছন্দ-অপছন্দ নির্ণয়ে ব্যাপৃত ছিলাম। এখন মানুষের মধ্যে স্বস্তি আছে, আত্মবিশ্বাস আছে। তারা ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। এটাই স্বাধীনতার সুফল। স্বাধীনতার পরের রাজনীতি হচ্ছে ভাগ্যোন্নয়নের রাজনীতি। যেখানে শান্তি বিরাজ করে সেখানে কেন্দ্রের বরাদ্দ বেশি আসে। কোন্দল-গণ্ডগোল থাকলে এর উল্টো ফল হয়। তিনি বলেন, বিভেদের রাজনীতি না করে সকলকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আর এ কাজের জন্য দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলা প্রয়োজন। ঐক্য-শৃঙ্খলা বজায় রেখে অশান্তি অরাজকতাকে বর্জন করা হলে উন্নয়ন গতিশীল হয়। সময় উপযোগী উদ্যোগ তথা সঠিক সময় নির্ধারণ করতে পারলে সফলতা পাওয়া যাবে। তাই আমাদের বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশে যেকোন ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে ঐক্য বজায় রেখে তাঁর স্বপ্ন সফল করব— এটাই হবে তাঁর শাহাদাত্ বার্ষিকীতে সকলের অঙ্গীকার। আলোচনা সভার বিশেষ অতিথি পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা আজও সক্রিয়। তিনি বঙ্গবন্ধুর সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ’৪৮, ’৫২, ’৫৪, ’৬৬ ইত্যাদি সালসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ’৭০র নির্বাচন, মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়া সব কিছুই বঙ্গবন্ধুর ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয়। তিনি স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করতেন বলে কারও কাছে কখনও নত স্বীকার করেননি। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন হয়ে দিল্লিতে এসে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে প্রথমেই বলেছিলেন, কখন বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। শ্রীমতি গান্ধী বঙ্গবন্ধুর কথা অনুযায়ী অচিরেই বাংলাদেশ থেকে বাহিনী ফিরিয়ে নেন। তিনি বলেন, হয়ত সেদিন ভারতীয় সেনাদের প্রত্যাহার করা না হলে ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে বঙ্গবন্ধুকে এভাবে সপরিবারে শাহাদাত্ বরণ করতে হতো না। আজ দেশে জামায়াতের প্রেতাত্মা তথা পাকিস্তানি এজেন্ট ১৫ আগস্ট নিজের মিথ্যা জন্মদিন পালন করে। নিজের স্বামীকে স্বাধীনতার মিথ্যা ঘোষক বানায়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চায়। এদের ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। এই ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। এ কে এম এ আউয়াল ভাণ্ডারিয়াবাসীর উদ্দেশে বলেন, এখানকার সন্তান তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন বিকাশে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন। তাঁরই ছেলে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার সরকার গঠনে অনুরূপ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাই ভাণ্ডারিয়াবাসীকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মোঃ আবু বকর মন্টু হাওলাদারের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাস, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়জুর রশীদ খসরু, জেলা যুবলীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান ফুলু, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, টুঙ্গীপাড়া আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাফিজুর রশীদ তারিক, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা আবুল কালাম পোদ্দার, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম মিঠু, উপজেলা আওয়ামী সমবায় লীগের নেতা আব্দুল হালিম, যুবলীগের আহ্বায়ক এনামুল হক তালুকদার টিপু, যুব সংহতির নেতা জামাল উদ্দিন লিটন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এহসাম হাওলাদার ও ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার। সভা পরিচালনা করেন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মান্নান। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, যুগ্ম মহাসচিব খলিলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও আসমা বেগম, জেপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক লিয়াকত হোসেন তালুকদার ও নিজামুল হক নান্না, যুব সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুজ্জামান হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান আম্মান লিটন প্রমুখ। পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল ভাণ্ডারিয়া উপজেলার এলজিইডি নির্মিত বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এগুলো হচ্ছে— ভাণ্ডারিয়া কলেজ-পূর্ব পৈকখালী-মাটিভাঙ্গা-আওড়াবুনিয়া সড়কের দু’টি গাডার ব্রিজ এবং ভাণ্ডারিয়া থানা-পূর্ব ধাওয়া সড়কে একটি গাডার ব্রিজ, ধাওয়া ইউনিয়নের পশারিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, তেলিখালী ইউনিয়নের জুনিয়া কাজিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, পূর্ব ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার, গৌরীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বলঘার ব্রিজ থেকে কানুয়া পর্যন্ত সড়ক, নদমুলা ইউনিয়নের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নদমুলা মাদ্রাসা ভায়া চিংগুরিয়া কলোনী বাজার পর্যন্ত সড়ক। এসব কর্মসূচিতে এলজিইডি’র পিরোজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান, ভাণ্ডারিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, ইউএনও কাজী বজলুর রশীদ, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, ভাণ্ডারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, নদমুলা ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল কবির তালুকদার বাবুল, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, তেলিখালী ইউপি চেয়ারম্যান শাহদাত হোসেন, গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু প্রমুখ। গোলামি করার জন্য নয়... পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রাতে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা গ্রামে তাসমিমা হোসেন চত্বরে এক জনসমাবেশে বলেন, রাজনৈতিক দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে উন্নয়নের জন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশে যদি রাজনীতিতে সুস্থতা ও স্থিতিশীলতা থাকত দেশ আরো উন্নত হতো। স্বাধীনতা-উত্তর ৪৩ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন হয়েছে তা কম না হলেও পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ উন্নয়শীল তথা গরীব দেশ। আমরা যা কিছু করি তার বেশিরভাগই বিদেশি সাহায্যে করি। এই জন্য আমাদের শুকরিয়া করা উচিত। এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে কারও গোলামি করার জন্য নয়। এ দেশ কখনো পাকিস্তান বা ভারত হবে না। এসব কথা যারা বলেন তারা রাজনৈতিক সস্তা সুবিধা নেয়ার জন্য বলে থাকেন। আমাদের দেশ স্বাধীনই থাকবে। আমরা যে যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করব। তেলিখালীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়ার ইউএনও কাজী বজলুর রশীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, ইকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান তানবির হাসান বাবু, তেলিখালী ইউপি সদস্য বাহউদ্দিন বাদল, উপজেলা ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাহাত জোমাদ্দার, প্রভাষক হুমায়ুন কবির প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল তালুকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও আসমা বেগম।