জোর করে বাল্যবিয়ে দেয়ায় বাবা-মায়ের সাথে অভিমান করে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে লিজা আক্তার (১৬) নামের নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী। গতকাল শনিবার দুপুরে মুমূর্ষু অবস্থায় দগ্ধ লিজা আক্তারকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী (লিজার মা) মাসুমা বেগম জানান, সম্প্রতি তার মেয়েকে মেহেরীগণ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী প্রতিবেশী নুর ইসলামের পুত্র মিরাজের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। আগামীকাল সোমবার লিজাকে তার স্বামীর বাড়িতে নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু লিজা এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি। সে আরো লেখাপড়া করতে চায়। তিনি আরো জানান, বিয়ের পর থেকেই লিজা অস্বাভাবিক আচারণ শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার গভীর রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে লিজা তার নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শনিবার দুপুরে উন্নত চিকিত্সার জন্য লিজাকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেবাচিম হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. রিয়াজুল ইসলাম জানান, লিজার শরীরের ৬০ ভাগ দগ্ধ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ ব্যাপারে উজিরপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, বাল্যবিয়ে কিংবা শরীরে আগুনের বিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
