অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় জঙ্গিরা

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৬
এই মুহূর্তে সংগঠিত হয়ে বড় ধরনের কোন নাশকতা ঘটানোর মতো শক্তি বা অবস্থা কোনটাই নেই জঙ্গিদের। তবে বিচ্ছিন্নভাবে দেশে জঙ্গিদের কার্যক্রম চলছে। অনুকূল পরিবেশ, পৃষ্ঠপোষকতা আর আর্থিক সহায়তা পেলে জঙ্গিরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এমন আশঙ্কা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মনিরুল ইসলামের। তার মতে, সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে জঙ্গিরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ ও গোয়েন্দাদের তত্পরতার কারণে এক ছাতার নিচে আসতে পারছে না। এখন তারা অনুকূল পরিবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। একই ধরনের মত র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খানের। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে জঙ্গিরা সিরিজ বোমা হামলা চালানোর পর থেকেই র্যাব জঙ্গি বিরোধী কার্যক্রম শুরু করে। র্যাবের অব্যাহত অভিযান আর শীর্ষ নেতাদের একের পর এক গ্রেফতারের কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি জঙ্গি সংগঠনগুলো। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে র্যাব জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। র্যাবের কর্মপরিকল্পনার মধ্যেও এটা রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা অব্যাহত থাকলে জঙ্গিদের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সিগঞ্জ বাদে) একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। ওই ঘটনার ৯ বছর পরও জঙ্গিরা ঘুরে দাঁড়াতে পারে গোয়েন্দাদের এমন আশঙ্কা সাধারণ মানুষকে ভাবিতে তুলেছে। পুলিশ ও র্যাব এই ৯ বছরে কয়েকশ’ জঙ্গি নেতাকে গ্রেফতার করেছে। এদের অনেকে অবশ্য জামিনে ছাড়াও পেয়েছে। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ওই সময় সারাদেশে ১৬১টি মামলা হয়েছিল। এর মধ্যে ১০২টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। বিচারাধীন ৫৯টি মামলা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০২টি মামলায় ৩৪ জনের মৃত্যুদণ্ড আর ২৪৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। এর মধ্যে ১১৮ জনের যাবজ্জীবন সাজা দেয় আদালত। বাকি ৫৯টি মামলা এ বছরেই শেষ করার আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আবদুল্লাহ আবু। তিনি বলেন, ‘অনেক মামলায় সাক্ষীদের না পাওয়ার কারণে মামলা শেষ করতে সময় বেশি লেগে যাচ্ছে। আবার সাক্ষীরা ঠিকমতো না আসায় জঙ্গিদের শাস্তিও সঠিকভাবে হচ্ছে না। বেশিরভাগ সাক্ষীর ঠিকানাও পরির্বতন করা হয়েছে বলে পুলিশ বলছে। তারপরও জঙ্গিদের যাতে কঠোর সাজা হয় সে ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।’ ২০০০ সালে দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে বোমা হামলার মধ্যদিয়ে জেএমবি কার্যক্রম শুরু করে। জেএমবি’র কার্যক্রম যে একেবারে শেষ হয়ে গেছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। জেএমবি’র অনেক সদস্য এখনও আত্মগোপনে আছে। অনেক সদস্য জামিনে ছাড়া পেয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে প্রকাশ্যে আসে। এরপর দেশ জুড়ে শুরু হয় একের পর এক জঙ্গি বোমা হামলা। এসব হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। বাংলাদেশ জঙ্গি কবলিত হয়ে পড়ায় সেই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত হয়। জঙ্গি গ্রেফতারে তত্পর হয়ে ওঠে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ওই সময় গ্রেফতার হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহ, আব্দুল আউয়াল ও হাফেজ মাহমুদসহ ৭৪৭ জন আসামি। ২০০৭ সালের মার্চে শীর্ষ ৬ জঙ্গি নেতার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এ পর্যন্ত জেএমবির ৩৪ জন শীর্ষ নেতার ফাঁসির দণ্ড দিয়েছে আদালত। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৭ সালের ২৯ মে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও কাশিমপুর কারাগারে শীর্ষ ৬ নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। তারপর সংগঠনের দায়িত্ব নেয় মাওলানা সাইদুর রহমান। তিনিও গ্রেফতার হলে পরবর্তীতে মাওলানা সায়েম সংগঠনের হাল ধরেন। আরেক জঙ্গি সংগঠন হুজির শীর্ষ নেতা মাওলানা তাজউদ্দিনের সঙ্গে আঁতাত করে সংগঠনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে মাওলানা সায়েম। ফাঁসির দণ্ড থেকে বাঁচতে হাইকোর্টে আপিল করেছে জেএমবির ২২ জঙ্গি। তারা হলো- হাফেজ মাহমুদ ওরফে রাকিব হাসান ওরফে হায়দার, নারায়ণগঞ্জের সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীন ওরফে সজিব, নওগাঁর নিয়ামতপুরের আবদুল কাইউম, বগুড়ার শেরপুরের হাফেজ মিনহাজুর ইসলাম ওরফে সোহেল রানা ওরফে সানোয়ার হোসেন, জামালপুরের মো: আক্তারুজ্জামান, খুলনার তরিকুল ইসলাম ওরফে রিংকু, ঝিনাইদহের মনিরুল ইসলাম ওরফে মোকলেছ, নাসরুল্লাহ ওরফে শান্ত, ঝিনাইদহের রোকনুজ্জামান ওরফে সিবুন, গাইবান্ধার আবু তালেব আনছারী ওরফে বাবুল আনছারী, ঝিনাইদহের মোহন, মামুনুর রশিদ, ঝিনাইদহের মুহিদ আহম্মদ, মোজাম্মেল হক ওরফে মোজাম, তুহিন রেজা, সবুজ আলী, শৈলকুপার ফারুক হুসাইন, গাইবন্ধার মতিন মেহেদী ওরফে মতিনুর ইসলাম, ঝিনাইদহের মহিরুল আল মামুন ওরফে চাদ, ঝিনাইদহের বিল্লাল হোসেন, সাবউদ্দিন, শৈলকুপার রবজেল হোসেন ও আজিজুর রহমান। তাদের আপিল শুনানি এখন বিচারাধীন।